1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফ্রান্সের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছেন সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, ফ্রান্সের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু তার সরকারে অনাস্থা ভোটে হার মানেন এবং তার পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জায়গা খালি হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৯ বছর বয়স্ক লেকোর্নু খুব দ্রুতই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বের জন্য শীর্ষ পছন্দের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি গত তিন বছর ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এই সময়ে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় ফ্রান্সের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ দায়িত্বপ্রাপ্ত লেকোর্নুর কাছে কাজের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী বাজেট পাস করা। বিশেষ করে, সাবেক সরকারের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট পাসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাইরুর সরকারের পতনের মূল কারণ ছিল বাজেটের জন্য সংসদে আস্থা ভোটে_FAIL}াৱা়।

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নু দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ফ্রান্সের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের সেবা এবং দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশটির অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারী ঋণ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউরো, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরুর বিশ্লেষনে, অর্থনীতি সচল রাখতে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো বাজেট কাটা প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সংসদে সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থার মুখে পড়ে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক মিত্ররা এখন লেকোর্নুর নিয়োগে স্বস্তি ব্যক্ত করেছেন। মোদেম দলের মন্ত্রী মার্ক ফেনো বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধার আনতে সকলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি। অন্যদিকে, বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো মন্তব্য করেছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কিছু হচ্ছে না, আর মনে করছেন, এ সময় প্রেসিডেন্ট মাখোঁর অধিকার শেষ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাখোঁ হয়তো মধ্যবামের রাজনৈতিক দিক থেকে কিছু করণীয় করছেন। এমনকি, সমাজতান্ত্রিক নেতা অলিভিয়ে ফোর সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত নিরবে থেকেছেন। অন্যদিকে, চরম ডানপন্থী নেতা মারি ল পেন অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট এখন তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে ‘বাঙকার থেকে’ মাখোঁর বিরুদ্ধে শেষ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

গত বছর ইউরোপীয় নির্বাচনে ফলাফল অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হওয়ার পর, মাখোঁ আনুমানিকভাবে জাতীয় নির্বাচন ডেকে দেন। সেই নির্বাচন ঝুলন্ত সংসদ তৈরির ফলে দেশে বিশেষ ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এখন, প্রাধান্যপ্ৰাপ্ত তিনটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হলো – বামপন্থী, চরম ডানপন্থী ও কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল অবধি মাখোঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এদুয়ার ফিলিপ। তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নুর অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। ফিলিপ মন্তব্য করে বলেন, আমি লেকোর্নুকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি; তিনি বিতর্কে পারদর্শী এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে এই দক্ষতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, বাজেট বিষয়ে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতা না হলে দেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা নতুন নির্বাচনের দরকার পড়তে পারে।

অতীতের মতোই, এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বৃহৎ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা। সম্প্রতি, দেশে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ ট্রিলিয়ন ইউরোতে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরু বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাব দিলেও, সেটি সংসদে পাশ হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থা পায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। মহামারি আন্দোলন ‘ব্লোকোঁ তু’ নামে দাবিটা করছে, যেখানে এর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo