1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫

তিন বছর আগের তুলনায় দেশের দারিদ্র্য হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যা জানিয়েছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান দারিদ্র্য, অতি দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব বিষদভাবে বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে চলমান ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়, যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তির জীবনমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই সংকটগুলোকে আরও জটিল করে তোলে। পিপিআরসি বলেছে, গত আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা ৮.৫৪ শতাংশ হলেও সে হার এখন কমে ৩.၆৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঘুষের কার্যক্রম হচ্ছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় কমে যাচ্ছে, তবে খরচ বাড়ছে। শহরের গড় আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারগুলোর গড় আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্তরে, গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সামান্য সঞ্চয় বা অবশিষ্টাংশ থাকছে না।

উল্লেখ্য, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয় খাবার পূরণের জন্য। মাসে গড়ে এই পরিবারের খাবারে খরচ হয় ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা ও আবাসন খাতে ১,০৮৯ টাকা করে খরচ হয়।

নেতৃত্ববলে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির দিকে তাকিয়ে না থেকে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিকের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।

বিশেষ করে, দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বিবেচনায়, বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি উচ্চারণ করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন মান উন্নত হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo