1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

ইসি: স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থীতা অযোগ্য করার সুপারিশ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনে পরিবর্তনের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। এই সুপারিশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতা, দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থীতা বাতিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের ইসি ভবনে কমিশনের ১২তম সভায় এসব সুপারিশ আলোচনা ও চূড়ান্ত হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা বেলা ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় শেষ হয়।

কী কী সুপারিশ করা হয়েছে

– এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ইসি মনে করে এ ধারা স্থানীয় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ অযোগ্য করা উচিত।

– আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

– দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অযোগ্য করার সুপারিশ করা হবে। ইসি সচিবের ভাষ্য, এ বিষয়ে কমিশন মনে করছে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

– আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্তদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব রাখা হবে।

– ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে দুটি ক্ষেত্র আলাদা করে দেখা হয়েছে—ঋণের ক্ষেত্রে বন্ধকদাতা ব্যক্তিগতভাবে থাকলেও জামিনদারদেরও ঋণ খেলাপি হিসেবে অযোগ্য করা যাওয়া উচিত কি না, এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত করা হয়েছে।

– বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসা ইত্যাদি পরিষেবার বিল খেলাপি থাকলে সেটিকে অযোগ্যতার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

– সরকারি ও লাভজনক কোনো পদে থাকলে সেই ব্যক্তি স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধানও সুপারিশে থাকা সম্ভাব্য দিকগুলোর মধ্যে আছে।

নাগরিক-পরিচয় ও ভোটার নিবন্ধন নিয়ে প্রস্তাব

– এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) প্রতি ১৫ বছর পর নবায়নের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ হয়েছে। নবায়ন আবেদনপত্রে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে পরিবারের তথ্য দিতে হবে—তাতে ইসি ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের ফ্যামিলি ট্রি বা বংশগত তথ্য তৈরি করতে পারবে বলে বলা হয়েছে।

– বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৬ বছরীদের তথ্য সংগ্রহ করে ১৮ বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইসি এখন ১৫ বছরের কম বয়সীদের এনআইডি প্রদানের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে; তবে ন্যূনতম বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে।

– এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের বিষয়ের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি আনার প্রস্তাব করা হয়েছে—পাবলিক পরীক্ষার (এসএসসি, জেএসসি, পিএসসি) সনদের জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে সংশোধন করা যেতে পারে।

– ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনলাইনে আবেদন করা যাবে এবং এর জন্য একটি নির্ধারিত সংশোধনী শুল্ক নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

– প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করা হবে—বায়োমেট্রিক আপলোড করে যথার্থতা মিললে ইসি এখান থেকেই অনুমোদন দেবে; এতে একটি ধাপ কমে যাবে।

আইনগত প্রক্রিয়া ও টাইটলাইন

ইসি সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠাবে; চূড়ান্ত সংশোধন করার ক্ষমতা স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংসদের। ইসি সচিব জানান, তারা দ্রুত এই প্রস্তাবনা পাঠাবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরই যদি উপযুক্ত মনে করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত সময়সূচি সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার নিবন্ধনের জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত রেকর্ডগুলো কাজে নেয়া হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পূর্বে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন সম্ভবত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে হবে; সেই অনুযায়ী ইসি ড্রাফট প্রস্তুত করে কাজ করবে। তবে আইনে সংশোধনের কারণে ভোট পিছিয়ে যাবে কি না, তা এখন বলা যাচ্ছে না।

সারসংক্ষেপ

কমিশনের এই সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন ও ভোটার ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে চায়—বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত কর্মীরা, দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটি-চর্চিতদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সীমিত করার মাধ্যমে। পাশাপাশি এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করা হচ্ছে—নবায়ন, অনলাইন স্থানান্তর ও প্রবাসীদের নিবন্ধন সহজীকরণসহ। এখন এসব প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংসদে পাঠানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত রূপ দেয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo