দু’ঘণ্টা ধরে বিঘ্নের পর বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আবার সচল হয়েছে ফেসবুক। দেশে অনেক ব্যবহারকারী হঠাৎ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ ও বার্তা পাঠাতে সমস্যা অনুভব করেন—কেউ ধীরগতিতে পেজ লোড হচ্ছিল, কেউ ঠিকই খুলে উঠছিল না। মেসেঞ্জারে বার্তা ‘সেন্ডিং’ অবস্থায় আটকে থাকা, নিউজফিড না আসা আর কল কলে ব্যর্থতা দেখা গেছে। সমস্যাটি বেশি দেখা গেছে ফেসবুকের ওয়েব ভার্সনে।
ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা শুরু হয়। বেশিরভাগ রিপোর্টে বলা হয়েছে ফেসবুক খুললেও নতুন পোস্ট লোড হচ্ছিল না, মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তা যাচ্ছিল না বা দীর্ঘ সময় ‘সেন্ডিং’ হিসেবে দেখাচ্ছিল। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্স কাজেও ব্যাঘাত ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের সাময়িক ব্যাঘাতের প্রভাব কেবল বিনোদন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না। বর্তমান সময়ের অনেক ছোট ব্যবসা, অনলাইন উদ্যোক্তা, সংবাদমাধ্যম ও ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজের বড় অংশই ফেসবুকের ওপর নির্ভর করেন; তাই কয়েক ঘণ্টার সমস্যাও তাদের কাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি মনিটরিং ওয়েবসাইট জানিয়েছে যে ডেস্কটপে ফেসবুকে প্রবেশে সমস্যা শুরু হয়েছিল প্রায় ৪৫ মিনিট আগে, মেসেঞ্জারে সমস্যা ধরা পড়ে ২৬ মিনিট এবং ইনস্টাগ্রামে ৩২ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনেকে ডেক্সটপে লগইন করতে পারেননি। তবে অনেক রিপোর্টে মোবাইল অ্যাপে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম সমস্যা দেখায়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমস্যার রিপোর্ট উঠে এসেছে—রোমানিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া সহ হাঙ্গেরি, এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, কানাডা, ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ডের ব্যবহারকারীরাও এ ধরনের ত্রুটির কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনুঘটক—তাই এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত দ্রুত উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে ব্যবহারকারীরা আবারও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।