1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

গুম ও হেফাজতে হত্যার ছবি ‘সতলুজ’ ভারতের ক্যাটালগ থেকে সরানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাব নিয়ে নির্মিত বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হলে দর্শক, চলচ্চিত্রকর্মী ও রাজনৈতিক মহলে রোষের ঝড় উঠে।

ছবিটি শিখ মানবাধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরার জীবন ও তাঁর অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ; এতে আরজুন রামপালও আছেন। পরিচালনা করেছেন হানি ত্রেহান। ছবিটি মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে চলমান অনুসন্ধান ও সৎকারের সংগ্রাম তুলে ধরে।

ছবিটি আকস্মিকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে সবচেয়ে কড়া বিরোধিতা এসেছে দিলজিত দোসাঞ্জের কণ্ঠ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’ তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রাম লাইভেও বলেছিলেন যে ছবিটি হয়তো শীঘ্রই নামিয়ে দেওয়া হবে এবং মানুষ দেখতে না পারলে ডাউনলোড করে রাখতে বলেছিলেন। পরে রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে একটি গণপ্রদর্শনী আয়োজনের ভিডিও শেয়ার করে তিনি পাঞ্জাবিতে মন্তব্যও করেন যে—’এই ছবি আর থামানো যাবে না।’

জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’-এ ছবিটি এখনো আছে, কিন্তু ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ব্যতিক্রমী ছিল। আমরা ছবির সৃজনশীল ভাবনার প্রতি অঙ্গিকারবদ্ধ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা আইনি পথ অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব ছবিটি ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

ছবিটির সেন্সরশিপ ইতিহাসও জটিল। ২০২২ সালে এটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-এ ‘ঘাল্লুঘারা’ শিরোনামে জমা পড়েছিল; তখন বোর্ড ১২৭টি দৃশ্য কাটা এবং নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রযোজকেরা বম্বে হাইকোর্টে আপিল করলে পরে তা প্রত্যাহার করেন। তিন বছরের জটিলতার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর অবশেষে ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে জি-ফাইভে মুক্তি পায়। পরিচালক জানিয়েছেন যে থিয়েটার রিলিজে ব্যর্থ হওয়ায় গোপনে ওটিটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, এবং দোসাঞ্জ দাবি করেন ওটিটি-তে ছবিটি কোনো কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

জশবন্ত সিং খালরার কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে ছবিটি যে তুলে ধরে তা অনেকেই মূল্যায়ন করছেন। খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাবে পুলিশের দ্বারা জবাই বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের সন্ধান করে এবং একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার নাম সামনে আনে। ১৯৯৫ সালে তিনি অপহরণ করে হত্যা করা হয়; পরে সিবিআই তদন্তে ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

ছবিটি সরিয়ে নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। শিরোমনি আকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল বলেছেন, এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা ছবিটি দ্রুত পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন এবং বলেছেন, চলচ্চিত্রে দেখানো মানবাধিকার হরণ আদালতের রায়ের সঙ্গতিপূর্ণ। আম আদমি পার্টির সাংসদ মালবিন্দর সিং কাং বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখানে নিজেদের মুখোশ খুলে ফেলেছে—পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ভয় আরও স্পষ্ট হয়েছে। শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানানও বলেছেন, জনগণের ছবি দেখার এবং নিজস্ব মত গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে।

সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—কেন এমন এক মানবাধিকার ভিত্তিক চলচ্চিত্রকে ভারতীয় দর্শকদের থেকে আড়াল করে রাখা হলো, যখন রাজনীতিকভাবে বিতর্কিত বা উগ্র ভাবধারার কিছু ছবি মুক্তি পেয়ে ব্যাপকভাবে দেখানো হয়েছে। ছবিটি সরিয়ে নেওয়া ঘটনার পর ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের অভিযোগ নতুন করে জেগে উঠেছে।

এখন সংবাদচক্রে মূল প্রশ্নটি হচ্ছে: আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কি ছবিটি দ্রুত ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরে যাবে, নাকি বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় বিষয়—the পাঞ্জাবের অশান্ত ইতিহাস ও সেখানকার নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ—এ নিয়ে আলোচনাই হয়তো বৃহত্তর পর্যায়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজনীয়তাই তৈরি করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo