উদ্বোধনের পর থেকে চার বছরে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল হিসেবে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
বুসক থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের স্বাক্ষরে প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয় এবং পরদিন ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সেতুর কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে; পাশাপাশি সেতুতে নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণসংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী সরকারের ধার্য করা শর্তে ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ওই অর্থ প্রতি অর্থবছর চার কিস্তিতে মোট ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
টোল আদায়ের অর্থ থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে; কোনো কিস্তি বকেয়া নেই বলে সেতু বিভাগ জানিয়েছে। একই সঙ্গে টোল আদায়ের ১৫ শতাংশ হিসেবে ভ্যাটের নামানিতে ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চলমান রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থার সহায়তায় সেতুটি ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে বলে কর্মকর্তারা জানান।