ভ্যাটের পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণালংকারের দাম প্রতি ভরিতে ৯ হাজার ১৩ টাকা কমে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রি হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
বাজুস বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন মূল্য তালিকা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
এর আগে ১৫ জুন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। ওই মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হওয়ায় আলংকারিক বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ টাকা। কিন্তু নতুন বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রতি ভরিতে স্থিরভাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট ধার্য করা হওয়ায় স্বর্ণালংকারের চূড়ান্ত দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি অলংকারে ক্রেতাদের জন্য খরচ কমেছে ভরিপ্রতি ৯ হাজার ১৩ টাকা।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি অলংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি অলংকারের মূল্য রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এই দাম কার্যকর রাখবে। তবে অলংকারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। নতুন মূল্যের মধ্যে ভ্যাট ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়া যাবে না।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে যে রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
বাজুসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে রুপার দর মোট ৪৬ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ২৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২২ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, তাতে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার কমানো দেখা গেছে।