1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

পাকিস্তান পরিকল্পনা করছে বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

পাকিস্তান প্রথমবারের মতো যুদ্ধোত্তর সময়ে বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে—এমন কথা নিশ্চিত করেছেন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে পিএনএস তৈমুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।

কলম্বোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মর্নিং-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন পিএনএস হ্যাঙ্গর নামের একটি সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করেছে। সাবমেরিনটি এপ্রিলে চীনে কমিশনিং হয়েছে এবং পরে করাচিতে পৌঁছেছে। এটি গ্রহণে অংশ নিতে কমোডর ওমর ফারুক নিজে চীনে গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথে কলম্বোতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছিলেন।

কমোডরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাবমেরিন ইসলামাবাদকে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ীভাবে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা দেবে। এতে পাকিস্তানকে অঞ্চলটিতে কৌশলগতভাবে কার্যকর অবস্থান নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, বলে তিনি জানান।

এই সাবমেরিন-পরিবারটি ‘এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন’ (এআইপি) প্রযুক্তি সমৃদ্ধ—যার ফলে এগুলো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পানির নীচে থেকে অক্সিজেন বা রিফুয়েলিং ছাড়াই অপারেট করতে সক্ষম। পাকিস্তান এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন পরিবেশন করার লক্ষ্য স্থির করেছে; এর মধ্যে চারটি চীনে তৈরি হবে এবং বাকি চারটি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশটিতে নির্মিত হবে।

পাকিস্তানের নতুন হ্যাঙ্গরের নাম ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত—১৯৭১ সালে পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল, যা সেদিনের লড়াইয়ে আলোচিত একটি ঘটনা। তবুও সেটি যুদ্ধের ফলাফল পাল্টাতে সক্ষম হয়নি; শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগর ছেড়ে সরে আসে এবং পরবর্তী সময় তাদের উপস্থিতি প্রধানত উত্তর আরব সাগরে সীমাবদ্ধ থাকে।

বঙ্গোপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত। ভারতের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ড, আন্দামান ও নিকোবার অঞ্চলের নৈকট্য এবং এই সমুদ্রপথের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর পণ্য ও জ্বালানি চলাচলও এখানে গুরুত্ব বহন করে। ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গঠিত এই জলরাশিটি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক প্রত্যক্ষ প্রভাবশালী নৌশক্তি ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে বঙ্গোপসাগর বৈশ্বিক সমুদ্রশক্তির জন্যও উন্মুক্ত। তীরবর্তী দেশগুলো তাদের উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক সমুদ্র এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) উপর সার্বভৌম অধিকার রাখে; এর বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিদেশি সামরিক জাহাজও সাধারণত চলাচল করতে পারে। তবু কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলে যে শক্তি অবস্থান গড়ে ওঠে, তা উপকূলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অঞ্চলের ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে অঞ্চলটিতে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ‘অসম সামরিক ভারসাম্য’ বা অ্যাসিমেট্রিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, কোনো একক রাষ্ট্রই বঙ্গোপসাগরকে নিজের আঞ্চলিক সমুদ্র হিসেবে দাবি করে না; ফলে প্রতিটি গতিবিধি কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ারও সুযোগ রেখে দেয়।

পূরণীয় ব্যাখ্যা আর নিরীক্ষণ প্রয়োজন—সাবমেরিন মোতায়েন বাস্তবে কবে এবং কীভাবে হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। বর্তমান ঘোষণা নিরাপত্তা বিশ্লেষক, নৌ কৌশলবিদ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে।

সূত্র: কলম্বোভিত্তিক দ্য মর্নিং ও India Today।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo