1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

প্রেমিকা দিয়ে ‘হানিট্র্যাপ’ কৌশলে বাবাকে হত্যা: ছেলে ও সহযোগী গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে সম্পত্তির বিবাদকে কেন্দ্র করে নিজের বাবাকে হত্যা করার অভিযোগে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ অনুসারে বয়স্ক বাবুকে প্রেমিকার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৫) এবং তার সহযোগী আব্দুল জলিল।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশের এসপি এস এম রফিকুল ইসলাম সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি সুপরিকল্পিত ও নৃশংস একটি হত্যাকাণ্ড। সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়েকে টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বড় ছেলে বেলাল পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ধারণা করতেন এবং সেই লোভ থেকেই তিনি পিতাকে খুনের পরিকল্পনা করেন।

পিবিআই জানায়, নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল গ্রামের এই প্রবীণ বুধবার ২০২৪ সালের ৬ জুন মেয়ের বাড়ি চট্টগ্রামে আসেন। পরের দিন ৭ জুন বেলালের পরামর্শে তার এক প্রেমিকা ফোনে প্রেমের ভান দেখিয়ে মজিবুরকে ডেকে নেন। বাসায় ওই নারী এবং বেলালের সহযোগী জলিল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মজিবুরকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খাইয়ে অর্ধচেতন করা হয়।

পরে জলিল ও ওই নারী মজিবুরকে একটি সিএনজিতে করে সিআরবি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে থেকে বেলাল লালদীঘি থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর সন্ধ্যায় সিডিএ আউটার লিংক রোডের পাশে থাকা জঙ্গলে গিয়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ রাস্তার পাশের জঙ্গলে ফেলে তারা পালিয়ে যান।

হত্যার দুই দিন পর—২০২৪ সালের ৯ জুন—হালিশহর থানা পুলিশ ওই জঙ্গল থেকে সাদা লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরা এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় না পাওয়ায় ওই লাশ দাফন করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবার ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভগ্নপতি খোঁজ না পেয়ে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন এবং পরে নভেম্বরেই আদালতে অপহরণ মামলা করেন; তদন্তভার তখন পিবিআইকে দেওয়া হয়।

পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত শনিবার (১৩ জুন) কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী বেলালকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৪ জুন) ভোরে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকা থেকে সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে, গত দুই বছরে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন করা ব্যক্তি ছিলেন নিখোঁজ মজিবুর রহমানই। পুলিশ বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং জলিলকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নিহত মজিবুরের মেয়ে সালমা খানম পিবিআই কার্যালয়ে এসে বলেন, ‘‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম বাবাকে হয়ত কোথাও গিয়ে আবার বিয়ে করে বসেছেন। কিন্তু দু’বছর ধরে কোনো সূত্র না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জানতে পারলাম, সৎ ভাইরাই মিলে বাবাকে হত্যা করেছেন। এটা সম্পত্তি-জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আমি চাই অপরাধীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’’

পিবিআই কর্মকর্তা এবং পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার সব দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্তগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo