খুলনা, ১৪ জুন — ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম নিয়ে আজ রোববার খুলনা সিটি কর্পোরেশনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি মঞ্জু বলেন, শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সর্বমুখীভাবে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সভা করে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। গত বছর ডেঙ্গুতে অনেক শিশু মারা গেছে; এবারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে—তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের মাধ্যমে সচেতনতাবোধ গড়ে তুলতে হবে যাতে বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
শহরের স্কুলসমূহে যে সব প্রস্তাব এসেছে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি এবং সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। ‘‘প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করেন, সিটি কর্পোরেশনের ওপর বোঝা কমবে,’’ যোগ করেন মঞ্জু।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থা মডেল হিসেবে রাজশাহী শহরকে অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নগদ টাকা দিয়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য কেসিসি কিনে নেবে যাতে সেগুলো সঠিকভাবে রিসাইকেল বা নিষ্পত্তি করা যায়। বাজার ব্যবস্থাপনা, ডোবা-নালা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও জলাজমা রোধে সচেষ্ট থাকার আহ্বানও করেন তিনি। যে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন মঞ্জু।
কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহামন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
ডেঙ্গু সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কেসিসি’র ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস। মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধক কার্যক্রম, স্যানিটেশন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পেশ করেন।
সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক, সঙ্গে মোটর-বাস-ট্রাক মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কেসিসি কর্তৃপক্ষ সকলের সহযোগিতা পেয়ে শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।