1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

ভারত নেপালকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াটের বেশি রপ্তানি করতে দেবে না

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ভারতের অনুমোদন না পাওয়ায় আগামীকাল সোমবার (১৫ জুন) থেকে নেপাল বাংলাদেশকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট রপ্তানির পরিকল্পনা থাকলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সেই অনুমোদন এখনও দেয়নি, জানিয়েছেন নেপালের জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। খবরটি এসেছে নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট থেকে।

নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত ভারত-ব্যাংগলাদেশ সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা সংকটেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ আটকে আছে। তাছাড়া সংশোধিত কিংবা নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি, এবং নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি (জেএসসি) ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি)-র সিদ্ধান্তও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বর্ষার সময় নেপাল উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে; শীতকালে আবার ভারতের কাছ থেকেই বিদ্যুৎ আনা হয়।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক থার্কা বাহাদুর থাপা বলেন, এবারের রপ্তানি সীমাবদ্ধ থাকবে ৪০ মেগাওয়াটেই। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি, এবং আমরা এনভিভিএনের মাধ্যমে ভারতের সিইএর কাছে প্রক্রিয়া শুরু করলেও সেখান থেকে জানানো হয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে অতিরিক্ত ধার গ্রহণের জায়গা নেই।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নেপাল-ভারত জেএসসির বৈঠকে নীতিগতভাবে বাংলাদেশে রপ্তানি ৪০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৬০ মেগাওয়াট করার বিষয়ে সম্মতি হয়; পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগোওয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এনইএ এনটিপিসি/এনভিভিএনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের ব্যবস্থা চেয়েছিল। কিন্তু পরে এনভিভিএন জানিয়েছে যে, ভারতে থাকা ভারত–বাংলাদেশ সঞ্চালন লাইনের (প্রতিসামর্থ্য ১ হাজার মেগাওয়াট) মধ্যে অতিরিক্ত বরাদ্দ নেওয়া সম্ভব নয় বলে তারা বার্তা দিয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির নীতিগত অনুমোদনের মাধ্যমে ভারত তার সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর এনইএ, এনভিভিএন ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির খসড়া তৈরি হয় এবং ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর নেপাল ও বাংলাদেশের জেএসসির বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পথে এগোবার সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিন এনইএ, বিপিডিবি ও এনভিভিএনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট রপ্তানি হচ্ছে।

নেপাল প্রথমবার ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে প্রায় ১২ ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল। রাস্তায় থাকা রাস্তায়, নেপালের বিদ্যুৎ ঢালকেবার–মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে ঢুকে বাহারামপুর–ভেড়ামারা ৪০০ কেভি লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বর্তমানে অনুমোদিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে; এই প্রকল্পগুলোই ভারতে রপ্তানির জন্যও অনুমোদন পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট রপ্তানির ক্ষেত্রে একই প্রকল্পগুলোর জন্য ভারতের আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

মূল্য নির্ধারণে নেপাল বাংলাদেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ৬.৪০ মার্কিন সেন্টে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট হলে একই মূল্য কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত নেপালের কাছে ভারত ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট রপ্তানির অনুমোদন রয়েছে। ভারতে বিক্রি করা বিদ্যুৎ ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জ‑এর ডে‑অ্যাহেড ও রিয়েল‑টাইম মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক দামে হচ্ছে; অনেকে এনভিভিএনের সঙ্গে মধ্যমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতেও বিক্রি করা হয়। ভারতের সঙ্গে লেনদেন ভারতীয় রুপিতে হয়, আর বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন মার্কিন ডলারে।

পিছনের দিকে ফিরে দেখলে ভারত প্রথম ২০২১ সালের অক্টোবরে নেপাল থেকে ৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির অনুমোদন দিতেই শুরু করে; এরপর ধাপে ধাপে অনুমোদন বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে নেপাল প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত রপ্তানির আশায় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপালের আয় হয়েছে ২০.৯৯৫২ বিলিয়ন রুপি, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ১৩.১০৩৩ বিলিয়নের তুলনায় বেশি।

নেপালী কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী নেপাল‑ভারত জেএসসি বৈঠক এবং সচিব পর্যায়ের জেডব্লিউজি বৈঠকে আলোচনা হবে; কিন্তু এসব বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঠিক করেনি। যতক্ষণ না ভারতের সিইএর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়, ততক্ষণ বাংলাদেশে নেপালের রপ্তানি সীমাবদ্ধ থাকবে ৪০ মেগাওয়াটেই।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo