1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে জলবায়ু রোধে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন করবে সরকার যশোরসহ চার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হবে সরকার ঘোষণা: ৫ বছরে ২০ হাজার কিমি নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার নতুন সিদ্ধান্ত বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব আদালত নির্দেশ দিয়েছেন: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে ৩০ বছর পর: সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ বৃক্ষরোপণকে ‘সবুজ বিপ্লব’ে রূপান্তর করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান মানবতাবিরোধী মামলায় হানিফসহ চারজনের রায় যেকোনাে দিন ঘোষণা হতে পারে

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামার দিন; বন ও জলদস্যু আতঙ্কে দ্বিধায় জেলেরা

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

দিঘি বিশ্রহের পর আজ রাত ১২টা থেকে শেষ হচ্ছে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা উঠলেই ট্রলার তুলে সাগরে যাচ্ছেন জেলেরা—তবে এবার তারা ভরা আশার সঙ্গে ভরছে ভীতিও। উপকূলীয় এলাকায় বন ও জলদস্যুদের ভয় কাটিয়ে সুরক্ষিতভাবে মাছ ধরাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে একে একে কিছু ট্রলার ভিড়ছে। দুই মাসের বিশ্রতের পর জেলে-মহাজনরা আড়তে জড়ো হচ্ছেন—কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলের ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন। শেষ মুহূর্তের এই তৎপরতায় আশা আর উদ্বেগ দুটোই স্পষ্ট বোঝা যায়।

ট্রলার মালিক ও আড়তদার মজিবর তালুকদার ও কবির হাওলাদার জানান, নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিনে সমুদ্র ভালো থাকলে প্রচুর মাছ ধরা যায়। কিন্তু এবারের মতো শুরুতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকায় অনেক ট্রলার সমুদ্রে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন ও জলদস্যুদের হুমকি যুক্ত হওয়ায় মহাজনরাও বেশ অনিশ্চিত।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, একটি ট্রলার সামঞ্জস্য করা বা মেরামতে সাধারণত প্রতি মহাজনের কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। অনেক মহাজন ঋণ নিয়ে এসব কাজ করছেন। আশা থাকে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর ইলিশ ধরা শুরু করলে তা বিক্রি করে ঋণ শোধ করা যাবে। কিন্তু প্রথমদিনেই প্রতিকূল আবহাওয়া ও দস্যু আতঙ্ক যৌথভাবে বিরাট হতাশা তৈরি করেছে। ফলে অধিকাংশ মহাজন প্রথম দফায় ট্রলার পাঠানোর ব্যাপারে অনিচ্ছুক।

জেলে নেতারা বলছেন, এসব দস্যু বাহিনী গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে জেলেদের নির্যাতন, অপহরণ ও আহরিত মাছসহ ট্রলারে থাকা জিনিসপত্র লুটপাট করে। অনেক সময় অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণ দিতে হয় লাখ লাখ টাকা। এই ভয় থেকেই মৌসুমের শুরুতেই ইলিশ আহরণ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১২টার পর থেকে জেলেরা সাগরে রওনা দিতে পারবেন; তবে প্রথমদিন সামান্য খারাপ আবহাওয়া ও দস্যু হুমকি বিবেচনায় বেশিরভাগকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

কথায় কথায় আশাও আছে—বহু জেলে মালামাল ঠিক করে, জাল মেরামত করে আবার সমুদ্র তীরের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু বন ও জলদস্যুদের ভয় ও অনিশ্চয়তা কেটে না গেলে পুরো মৌসুমের ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo