তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল রুটিন কার্যক্রম হিসেবে গ্রহণ না করে তা একটি সার্বিক ‘সবুজ বিপ্লব’ে রূপান্তর করতে হবে। তিনি এমন উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে পরিবেশভিত্তিক স্টার্টআপ গঠনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুন) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ ও ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে — বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান।
উদ্ছলে তিনি স্মরণ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) সৌদি আরবের মরুভূমিতে নিমগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়েছিলেন, যা আজও হাজীদের রৌদ্রের তাপ থেকে প্রশান্তি দিচ্ছে—এটি পরিবেশ রক্ষায় দুর্বল কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. জুবাইদা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবন ও মেধার সুষ্ঠু ব্যবহার অপরিহার্য। বিজ্ঞান-মেধা ভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণরা নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে, যা মানুষকে উপকৃত করবে এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে সহায়ক হবে।
তিনি সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে নেভগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে — বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা। তিনি আরও বলেন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি ও বাসযোগ্য সৌন্দর্য গড়ে তোলা সম্ভব। তাই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
এ লক্ষ্যে তিনি গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ ও পরিবেশভিত্তিক স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন, যাতে বাচ্চাদের মধ্যেই পরিবেশ-সচেতনতা গড়ে ওঠে।
ডা. জুবাইদা বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শাখায় সুস্থ প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের বহুমুখী সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রতিযোগিতার সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন জেডআরএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং পরিচালনা করেন জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ. ফ. মো. ইউসুফ হায়দার, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেডআরএফের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ। এছাড়া প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফে ছানী, জেডআরএফের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করা হয়।