জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সচিবালয় কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত মোট অর্থের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সভাটি প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রিক এই অনুমোদনের মধ্যে নতুন প্রকল্প আছে ৫টি, সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বাড়ানোর ২টি প্রকল্প। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতে সমাজ-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।
সভায় অনুমোদিত প্রধান ১০টি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো:
– পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)।
– ভূমি মন্ত্রণালয়: সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ।
– পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ।
– সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়: আনোয়ারা–বাঁশখালী–টইটং–পেকুয়া–বদরখালী–চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘী থেকে ঈদমনি) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (আর-১৭০)।
– জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও-এ লিফট সংযোজন।
– স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২।
– প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধন)।
– শিক্ষা মন্ত্রণালয়: (১) মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (MEMIS) সাপোর্ট (৩য় সংশোধন), (২) দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন (৩য় সংশোধন)।
– বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধন)।
এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে সেবা আরও সুসংহত করা, স্বল্পকালিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি করা। সড়ক ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক সংযোগ ও শক্তি পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অতিরিক্তভাবে সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীও ছয়টি কম ব্যয় (প্রায় ৫০ কোটি টাকার কম) প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন। সেগুলো হলো:
১) বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (২য় সংশোধন),
২) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামত ও যানজট নিরসনে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও মেকানাইজড পার্কিং স্থাপন (২য় সংশোধন),
৩) নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ,
৪) ঢাকা সেনানিবাস এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সুবিধা সম্প্রসারণ,
৫) এক্সিলারেটিং অ্যাকশন টু এন্ড চাইল্ড ম্যারিজ ইন বাংলাদেশ (পেজ-২),
৬) পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন, খুলনা (২য় সংশোধন)।
একনেকের এই অনুমোদনগুলো বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন জেলায় মৌলিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নত হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।