পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তল্লাশির পরোয়ানা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মমতার কলকাতার বাসভবনে পৌঁছায়। এই তথ্যটি এনডিটিভি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
৭১ বছর বয়সি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মুহূর্তে দলের ভেতরে তীব্র বিরোধ এবং প্রকাশ্য কোন্দলের মুখে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিধানসভা স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে দলের কয়েকজন সাংসদ-সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানানো হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।
দুই সাংসদ—ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা—দাবি করেছেন, ৬ মে অনুষ্ঠিত বলে দেখানো ওই বৈঠকে তারা কোনও প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাদের মতে, বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ১৯ মে তাদের স্বাক্ষর আছে, কিন্তু ৬ মে তাদের স্বাক্ষর নেই। তারা আরও বলেন, মোট প্রাপ্ত প্রায় ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে ১৪টি স্বাক্ষর অস্বাভাবিকভাবে বড় হাতের অক্ষরে ছিল, যা সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত দুই সাংসদকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলের পদক্ষেপটি ঘোষণা হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নেয়া হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। একটি দল মমতার বাসভবনে রয়েছে—তাঁর বাসায় তল্লাশি চলছে—তবে মমতা বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। অন্য দুটি দলে একজন তাঁর ভাতিজা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস এবং অপরটি অভিষেকের বাসভবসে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও সিআইডির তল্লাশির ফলাফল পরবর্তীতে স্পষ্ট হবে। (সূত্র: এনডিটিভি)