1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রীবটী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যা মামলায় আদালত মঙ্গলবার (সোমবার বিকেলে) সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) মুমিনুল হক এই আদেশ দেন। কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া দুইজন হলেন— 당시 কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (ওরফে জাহিদ) ও ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত সৈনিক শাহীন আলম। সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী এবং বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা। পরিবার শুরু থেকেই তনুর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার নেতৃত্বের অভিযোগ তুলেছেন সার্জেন্ট জাহিদের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে শাহীন আলম বর্তমানে প্রায় ৩৭ বছর বয়সী এবং কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ছেলে। একটি সূত্র বলছে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। উভয়কেই ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী থেকে অবসর বা অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কুমিল্লা আদালতে সন্দেহভাজন ওই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। একই আবেদনে তিনি যদি সেনাবাহিনীর কাছে তদন্ত-সংক্রান্ত কোনো দলিল বা তথ্য থাকে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরেরও আবেদন করেন।

পিবিআই তদন্তকর্তা তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে আজ মামলার ধার্যতার দিন ছিল; আমরা (পিবিআই) আজ কুমিল্লায় না যেয়ে আদালতে অনাস্থিত ছিলাম, আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

তদন্তে নতুন এক তথ্যও এসেছে—তনু হত্যার পর তার পোশাক থেকে নেয়া নমুনায় আরও একজনের সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে মোট চারজনের জৈবগত নমুনা ধরা পড়েছে; এর মধ্যে আগের রিপোর্টে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া গেছে, আর নতুনভাবে পাওয়া নমুনাটি রক্তের ডিএনএ—যা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে মেলেছে বলে বলা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান।

এদিকে মামলার আরেক অভিযুক্ত সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাকে এইদিন কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি এবং পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান ৫২ বছর বয়সী; ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্য থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মামলায় তদন্ত করে আসছে পিবিআই; নতুন তথ্য-প্রমাণ বিচারকদের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo