অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রাচীন শহর হেবরনে গত শুক্রবার (৫ জুন) মায়ের কোলে থাকা সাত মাস বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা, জানায় পরিবার ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নিহত শিশুটির নাম স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার বাবা-মাও আহত হয়েছেন; গাড়িতে তখন মায়ের সঙ্গে তাদের ১১ বছর বয়সি আরেক সন্তানও ছিলেন।
পরিবার বলেছে, টেল রুমেইদা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা তাদের গাড়ি থামাতে নির্দেশ দিলে তারা গাড়ি থামান। শিশুটির বাবা ফাহদ আবু হাইকাল বলেন, তিনি গাড়ি সম্পূর্ণ থামিয়ে হাত স্টিয়ারিংয়ে তুলেছিলেন, তারপরই সেনারা গুলি চালাতে শুরু করে। প্রথমে গুলিটি তার হাত লাগলে পরে পেছনের সিটে মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকে আঘাত করে।
স্যামের বাবা হারেৎজকে জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটার সময় স্থানটি দিনের আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল এবং গাড়ির ভেতরে একটি পরিবার ছিল—তাই ভুল বোঝার সম্ভাবনা ছিল না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের ধারণা ছিল গাড়িটি তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল, তাই তারা গুলি চালায়। পরে আইডিএফ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বেসামরিকদের ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক সামরিক তদন্তে বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তিরা কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
পরিবার এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেছে। শিশুটির বাবা বলেছেন, ‘আমি চাই এই ঘটনার জন্য দায়ী সেনাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই শিশু।
এই ঘটনাটি স্থানীয় নদী ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে—আইনি তদন্ত, স্বচ্ছতা ও বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নগুলো তীব্রভাবে উঠে এসেছে।