1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ভুটান কেন্দ্রিক ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প: বাংলাদেশসহ চার দেশে কেঁপে ওঠে হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ বার পেছালো বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৫ বার পিছিয়েছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপি: চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনার জন্য আদ্-দ্বীনের দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিবাদ: আদ্-দ্বীনের দুই কর্মী সাময়িকভাবে অব্যাহতি শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান দিলেন ডেপুটি স্পিকার

সুন্দরবনে ভারতগামী ৫ ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা; এমভি আব্দুল হাকিম-১-এ গুলি ও লুটপাট

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

শনিবার (৭ জুন) রাতেই সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হওয়ার সময় শিংয়েরনালা এলাকায় ভারতগামী পাঁচটি ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা ও এক ট্রলারে গুলি-ুলুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রধান টার্গেট ছিল এমভি আব্দুল হাকিম-১। অপর চারটি জাহাজে ডাকাত দলের ওঠার চেষ্টা করা হলেও সেগুলোকে বিরত রাখা গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বর্ণনা দেন বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা এবং শিবসা নদী পথে ভারতে যাচ্ছিল পাঁচটি খালি কার্গো জাহাজ—এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি আব্দুল হাকিম-১। বেলা দুইটায় জাহাজগুলো মোংলা ত্যাগ করে সন্ধ্যার দিকে শিবসা নদী পার হচ্ছিল।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘন্টার দূরত্বে পৌঁছানোর পর ট্রলারযোগে আনুমানিক ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত চলে আসে এবং এমভি আব্দুল হাকিম-১-এর বাম দিক থেকে জাহাজে উঠে পড়ে। তাঁরা ক্রুদের ক্ষমতায় বাধা দিয়ে মারধর শুরু করে এবং মোবাইল, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুটে নেয়। টের পেয়ে মাস্টার সব গেইট বন্ধ করে দেন, ফলে ডাকাতরা সরাসরি মাস্টার কেবিনে যেতে না পেরে গেটের সামনে থেকে ১৫-২০ রাউন্ড শুটগানের গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ। ডাকাতরা প্রায় ১৫ মিনিট জাহাজে অবস্থান করে চলে যায়।

ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবীর বরাতে সিরাজুল আরও জানান, হামলা ও লুটপাটের সময় জাহাজের স্টাফরা গুলিতে আহত হয়—তবে গুরুতর আহতের তথ্য মেলে নি। তিনি জানান এই জাহাজগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যেত বলে প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু ওই রাতে সব জাহাজ খালি ছিল।

স্থানীয় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। ঘটনাটি ঘটার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মোংলা থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না পৌঁছায়নি বলে ওসি মোঃ আতিকুর রহমান জানিয়েছেন; খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানা থেকেও এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা না থাকলে ভারত-বাংলাদেশ রুটে জাহাজ চলাচল অনিবার্যভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শ্রমিকেরা ঝুঁকি নিয়ে এই পথে আর যেতে চাইবে না; তাই সরকারের তৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাহাজগুলো জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী চলাচল করে—সকাল-বিকেল এই সময়গুলোতেই যাতায়াত হয়—সুতরাং নদীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌপথে নিযুক্তদের উদ্বেগের মধ্যে প্রশাসনের দ্রুত অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি দুই প্রান্তেই জোরদার হচ্ছে। পুলিশ ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত না শুরু হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পেশ করা হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo