1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৫ বার পিছিয়েছে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপি: চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনার জন্য আদ্-দ্বীনের দুই কর্মীকে সাময়িক অব্যাহতি মগবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিবাদ: আদ্-দ্বীনের দুই কর্মী সাময়িকভাবে অব্যাহতি শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান দিলেন ডেপুটি স্পিকার বর্ষার আমেজ জোরালো: সক্রিয় মৌসুমি বায়ু কক্সবাজার পর্যন্ত, বৃষ্টি বাড়ছে শোকজের জবাব না পেলে আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বন্ধ ও আংশিক চালু কারখানা পুনরুদ্ধারে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ, গ্রাহক সুদ ৭%

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ ও আংশিকভাবে চলমান কারখানাগুলো পুরোপুরি চালু করার উদ্দেশ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধন হিসেবে কম সুদে ঋণ পাবে; গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।

এ নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ২৩ মে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার উদ্যোগের ধারাবাহিক পদক্ষেপ। ব্যাংক জানায়, তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো প্রধানমন্ত্রীভাবে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ গ্রহণ করে গ্রাহকদের ৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ দেবে। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

ঋণের সীমা ও মেয়াদ: একটি একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন ও ব্যবহারের ভিত্তিতে এটি নবায়নযোগ্য হবে। ঋণের জন্য গ্রাহকদের ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে; অর্থাৎ প্রথম ছয় মাস পর থেকে সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে।

কারা আবেদন করতে পারবে: নীতিমালায় বলা হয়েছে মূল লক্ষ্য বড় শিল্প ও সেবা খাতের সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষভাবে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম এমন কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে চালু করে, তাদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই সিআইবিতে খেলাপি নয় হতে হবে এবং পূর্ববর্তী অর্থ পাচার বা ঋণ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

ঋণের ব্যবহারবিধি: এই তহবিলের টাকা শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ–গ্যাস এবং অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যবহার করা যাবে। উপরোক্ত কোনও অবস্থায় ঋণের অর্থ পূর্বের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না। শ্রমিকদের বেতন অবশ্যই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রদেয় করতে হবে; নগদ লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক।

তদারকি ও আদায় প্রক্রিয়া: ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করে যাচাই করতে পারবে। গ্রাহককে সব ব্যবসায়িক আয়-ব্যয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ কর্তন করবে এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

উল্লেখযোগ্য শর্ত ও অনুপ্রেরণা: ব্যাংককে ঋণগ্রহীতাঙ্গন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে কোম্পানির কার্যক্রমে প্রতিনিধি বসানোর অনুমতি রয়েছে। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে বিশিষ্ট অবদান রাখলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং ব্যাংককে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগটির লক্ষ্য ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে নতুন গতি আনা, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তহবিলটি প্রয়োগে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এ নীতিমালা জারি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo