গোয়ার ফাইনালে তৃতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্নে নেমেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাত বছর পর আবারও দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ স্থান ফিরে পেল ভারত, আর বাংলাদেশ রানের্সআপ হল।
শুরু থেকেই ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের পরিকল্পিত ফুটবল শুরুতে বেশ ভালোই দেখালেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয় লাল-সবুজদের। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সাজানো ৪-৪-২ ব্যবস্থায় প্রথমার্ধে গোছানো ফুটবল খেলেছিলো বাংলাদেশ; তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়র আক্রমণে কয়েকটি উপযুক্ত মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন, তবে সেগুলো গোলের রূপ নেয়নি।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ভারতের হয়ে প্রথম গোলটি করেন পেয়ারি জাজা এবং এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। সে আঘাত পেলে মনোবল না হারিয়ে বাংলাদেশের মিশন চালিয়ে যায়; প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় তহুরা খাতুনের বাড়ানো বল থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফিরিয়ে দেন এবং দুই দল ১-১ সমতায় বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশকে ফের ধাক্কা খেতে হয়—৪৬ মিনিটে ভারতের দ্রুত আক্রমণ থেকে ম্যাচে ফিরে আসে দ্বিতীয় গোল। এরপর বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ফিরতি আঘাত করার জন্য চেষ্টা করলেও ম্যাচজুড়ে ক্লান্তির ছাপ পড়েছে; মাঝমাঠে প্রেরণার অভাব এবং আক্রমণে ধার কমছিল, যা ভারতের জন্য সুযোগ তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের ৮২ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কম সহজ ফিনিশিং করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন, ফলে স্কোর হয়েছিল ৩-১। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ বাংলাদেশ পায়নি এবং খেলাটি ভারতই জিতেছে।
ফলতঃ দীর্ঘ বিরতির পর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি পুনরুদ্ধার করলো ভারত, আর সদ্যবিরত বাংলাদেশ প্রত্যাশিত তৃতীয়বারের শিরোপা ধরতে ব্যর্থ হল। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছে এবং মাঠে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল উপহার দিয়েছে।