বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছে — ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ-আল-তারিক, এবং আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে। প্রত্যেকের মেয়াদ চার বছর এবং আজ বিকেল ৩টায় তারা বিএসইসির কার্যালয়ে যোগদানের কর্মসূচি পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করবেন এবং বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মাসুদ খান দীর্ঘ অভিজ্ঞতার করপোরেট ব্যক্তিত্ব: তিনি বর্তমানে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তার পূর্ববর্তী কর্মজীবনে লাফার্জহোলসিমে ১৮ বছর তিনি সিএফও হিসেবে ছিলেন এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দীর্ঘদিন দেশে ও বিদেশে ফাইন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পিছনে সরকারি আইনি পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাস হওয়ার ফলে পূর্বে চেয়ারম্যান পদে আরোপিত সর্বোচ্চ বয়সসীমা (৬৫ বছর) বাতিল করা হয়েছে, যা এই অভিজ্ঞ করপোরেট নেতাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব করেছে।
নতুন নেতৃত্বের উপস্থিতি পুঁজিবাজারে সংস্কারের নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্স্থাপন, বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। অনেকেই বিশ্বাস করেন, মাসুদ খানের সুশাসন ও ফিন্যান্স ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
এর আগে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চেয়ারম্যান এবং কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের পদত্যাগের পটভূমিতে পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কথাবার্তা উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ জানান, দায়িত্বকালে কমিশন বাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিল। গত ২১ মাসে মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র ও হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন সংক্রান্ত তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছিল এবং দুটি গুরুতর আইনের খসড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রী সাম্প্রতিক এক সেমিনারে উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে মুক্ত থাকা চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সামনে দ্রুত নীতি কার্যকর করা, বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়মবদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোই প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে রয়েছে। নিয়োগকৃত দলের কার্যক্রম পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনে কিনা—এটাই এখন বিনিয়োগকারাদের ও বাজার অংশগ্রহণকারীদের নজরের কেন্দ্রে থাকবে।