1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ, সুদ মাত্র ৭%

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ ও আংশিক চালু কারখানা পুনরায় পুরো ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ও নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধনের জন্য ঋণ নিতে পারবে, যেখানে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ নামে পরিচিত। আগে গত ২৩ মে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও বড় পরিসরের—৬০ হাজার কোটি টাকার—তহবিল ঘোষণা করেছিলেন; তার ধারাবাহিকতায় এ বার ২০ হাজার কোটি টাকার নীতিমালা প্রকাশ করা হলো।

নীতিমালার মূল পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ নেবে। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই তহবিল ৪ শতাংশ সুদে নেবে এবং গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশে ঋণ প্রদান করবে। বর্তমান বনিমাত্রায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হার অনেকখানি বেশি (প্রায় ১৪ শতাংশের ওপরে), তাই এই সুবিধা মূলধন জোগাড়ে উল্লেখযোগ্য রাস্ত unclamped করে দেবে।

কাদের জন্য সুবিধা:

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রধানত সেই বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিলের লক্ষ্য, যেগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। বিশেষভাবে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক এবং জাতীয় শিল্পনীতিতে সংজ্ঞায়িত ‘বড়’ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা কারখানাকে অধিগ্রহণ কিংবা ইজারা নিয়ে সচল করে তাহলে তাদেরকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শর্তাবলী ও বাদপ্রদান:

ঋণ নিতে হলে প্রতিষ্ঠানটি ঋণ তথ্য ব্যুরো (CIB) অনুযায়ী খেলাপি বা অর্থ পাচারের কোনো রেকর্ডযুক্ত হলে চলবে না। তহবিলের অর্থ পূর্বের কোনো ঋণের পরিশোধ বা দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা যাবে না। ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতার ওপর প্রতিনিধি বসাতে পারবে এবং ঋণের সঠিক ব্যবহারের তদারকির জন্য বিভিন্ন রিপোর্ট ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ঋণের মেয়াদ ও শর্ত:

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর, প্রয়োজনে ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে, অর্থাৎ প্রথম ছয় মাস সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে না। শ্রমিক ও কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা প্রদান, বিদ্যুৎ–গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন অবশ্যই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দেওয়া হবে—নগদ লেনদেন নিষেধ।

তদারকি ও আদায় ব্যবস্থাপনা:

ঋণের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতার কাছে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংকের প্রতিনিধিরা কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করার অধিকার রাখে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ঠ ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা কেটে নেবে এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে।

উদ্দেশ্য:

এই উদ্যোগের লক্ষ্য ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা, উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সফল বাস্তবায়নে যারা অবদান রাখবে—দুই একে ব্যাংক ও কোম্পানি—তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও দেয়া হবে।

সব ব্যাংকই এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারবে। আয়োজনটি বিশেষত সেই কোম্পানিগুলোর জন্য সহায়ক, যারা সরঞ্জাম-সামগ্রী থাকা সত্ত্বেও কেবল চলতি মূলধনের অভাবে উৎপাদন চালু করতে পারছে না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo