1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকা ২৮ জন, বিজিবি ঠেকাল নয়াদিল্লির হোটেল আগুনে কুমিল্লার নুরুল আমিন সোহাগের মৃত্যু, বোন-ভগ্নিপতি আশঙ্কাজনক দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনে কোনও জটিলতা নেই: খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন দিল্লি হোটেল আগুনে বাংলাদেশি নিহত: হাইকমিশন প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি: কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর ‘রেড টেলিফোন’ের তামার তার চুরি—প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় ভাঙারিকে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ মগবাজার আদ্‌-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২–৩ দিন; গরম কমার সূচনা না মেহেরপুরে ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত

বন্ধ কারখানা চালু করতে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ, সুদ ৭%—বাংলাদেশ ব্যাংক

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ নামে এই নীতি উন্মোচিত হয়।

এটি গত ২৩ মে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণার ধারাবাহিক পদক্ষেপ। লক্ষ্য হচ্ছে ঝিমিয়ে পড়া শিল্প-খাতে গতি ফিরিয়ে আনা, উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ৪% সুদে টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ৭% সুদে চলতি মূলধন ঋণ দেবে—এটি বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রচলিত প্রায় ১৪%+ সুদের হার থেকে প্রায় অর্ধেকের সমপর্যায়ের সুযোগ।

কারা আবেদন করতে পারবে

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসকল বড় শিল্প বা সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কেবল চলতি মূলধনের অনুপস্থিতির কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না, তারা এ ঋণের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। রপ্তানিমুখী এবং প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে সেটি সচল করার উদ্যোগ নেয়, তেমন সংস্থাও প্রাইরিটি পাবে।

ঋণের সীমা ও শর্ত

একটি একক কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর—প্রয়োজন ও ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য। গ্রাহকদের জন্য প্রথম ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে; অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসের মধ্যে সুদ কিস্তি আদায় শুরু হবে না। ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই তহবিল ৪% সুদে নেবে এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৭% সুদ ধার্য করা হবে।

ঋণের ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা

ঋণ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ–গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন সচল রাখার জন্য চলতি ব্যয় ঢাকায় ব্যবহৃত হবে। কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক শর্তে শ্রমিকদের বেতন তাদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং খাতে দিতে হবে; নগদে প্রদান নিষিদ্ধ। বিশেষ করে এই তহবিলের টাকা পুরোনো ঋণের পুনর্গঠন বা পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না।

অগ্রাহ্যতা ও যোগ্যতা

ঋণগ্রহীতা অবশ্যই সিআইবি (ঋণ তথ্য ব্যুরো) অনুযায়ী খেলাপি থাকতে পারবে না এবং তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না। জাতীয় শিল্পনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ ইস্যুগুলো আবার চালু করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

মনিটরিং ও দফতরীয় তদারকি

ঋণের সঠিক ব্যবহারের নিশ্চয়তায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধি প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় সরেজমিন পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে। নিয়মিত অর্থ আদায় ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত ২% দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

অনন্য সুযোগ ও উৎসাহ

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সফলভাবে ঋণ ব্যবহার করে জাতীয় অর্থনীতিতে অনুকূল অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেয়া হবে। দেশের সব ব্যাংকই এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে এবং বড় শিল্প-খাত পুনরায় সচল করতে এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo