1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকা ২৮ জন, বিজিবি ঠেকাল নয়াদিল্লির হোটেল আগুনে কুমিল্লার নুরুল আমিন সোহাগের মৃত্যু, বোন-ভগ্নিপতি আশঙ্কাজনক দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনে কোনও জটিলতা নেই: খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন দিল্লি হোটেল আগুনে বাংলাদেশি নিহত: হাইকমিশন প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি: কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর ‘রেড টেলিফোন’ের তামার তার চুরি—প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় ভাঙারিকে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ মগবাজার আদ্‌-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি তাপপ্রবাহ চলবে আরও ২–৩ দিন; গরম কমার সূচনা না মেহেরপুরে ট্রাক-ইজিবাইকের সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত

প্রতিনিধি পরিষদে ইরানবিরোধী প্রস্তাব পাস — ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতায় ধাক্কা

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার একটি যৌথ প্রস্তাব পাস হয়েছে। বুধবারের ভোরের ভোটে প্রস্তাবটি পক্ষে ২১৫ ও বিপক্ষে ২০৮ ভোট পড়ে, এবং এতে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছুমাত্র রিপাবলিকান সদস্যও সমর্থন দিয়েছেন, ফলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রস্তাবটির মূলใจ হলো: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বা নতুন কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যুদস্ত করতে বা সেখানে আরও বাহিনী মোতায়েন করতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। সংক্ষেপে, এটি প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা।

বৈদেশিক নীতির ইস্যুতে বিরলভাবে দ্বিদলীয় সমর্থন দেখা গেছে। রিপাবলিকান টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট ও ওয়ারেন ডেভিডসনসহ কিছু কংগ্রেসম্যান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট জ্যারেড গোল্ডেনও এবার সমর্থন দিয়েছেন, যদিও অতীতে তিনি অনুরূপ উদ্যোগে বিরোধিতা করতেন।

হোয়াইট হাউস দ্রুতই এই প্রস্তাবকে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল—আইনি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রেসিডেন্টের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের মতে, এমন যুক্তি নির্বাচনী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক ও সরাসরি আইনগত প্রভাব কতটা হবে তা এখনও অনিশ্চিত। আইনগতভাবে এটি কার্যকর হয়ে উঠতে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। যদি সিনেটও এটিকে গ্রহণ করে এবং পরে প্রেসিডেন্ট ভেটো দেন, কংগ্রেস ভেটো অগ্রাহ্য করতে দুই-তৃতীয়াংশের ভোট পেলে সেটি আইন হিসেবে গৃহীত হতে পারে। তবু সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ আদালতে পরীক্ষার মুখে পড়বে।

এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়—এর প্রভাব ঘরোয়া জ্বালানি মূল্যেও পড়েছে। তরুণ ও সশস্ত্র বিরোধী জনমত অনুষ্ঠেয় ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রতি পক্ষের প্রতিনিধির মন্তব্য থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব পাওয়া যায়। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট বলেন, সংবিধানের আলোকে যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রাখা উচিত—এটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সুরক্ষা। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সেই শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এটিকে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী দ্বিদলীয় বার্তা বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, সামরিক পথ কূটনৈতিক বিকল্পকে দুর্বল করেছে ও অঞ্চলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে।

সন্দর্ভ হিসেবে বলা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিশোধী হামলা ও সামরিক ঘটনার ফলে উপসাগরীয় পরিবহন ও বিশ্ববাণিজ্যে ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা বাড়ে। কংগ্রেসের এই উদ্যোগ সেই চাপের প্রতিফলনও বলেই ধরা হচ্ছে।

বিবিসি রিপোর্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এই ঘটনার তথ্য তুলে ধরেছে। প্রস্তাবটি এখন সিনেটে যাবে; সেখানে কীভাবে এগোচ্ছে এবং আইন হওয়ার পথটা কেমন হবে—এইসবই আগামী কিছু সপ্তাহে পরিষ্কার হবে, এবং যদি প্রয়োজন পড়ে আদালতেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যায়ে বিবেচিত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo