1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

মগবাজার আদ্‌-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে এসি বন্ধ ও চরম অবহেলার কারণে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দেশের প্রযোজ্য সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সরকারের শক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রনালয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স-স্টাফদের গাফিলতি ও চরম অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মন্ত্রী বলেছেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ ও অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আমার আইন যতটা কঠোর করা সম্ভব, আমরা ততটুকুই করবো। এবার আর কাউকে এভাবে করা যাবে না।”

রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানায়, ওই হাসপাতালের ২ নম্বর পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি রোগী রাখার উপযোগী ছিল না। আনুমানিক ৯০০ বর্গফুট আকারের কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার কারণে ও বিকল্প ভেন্টিলেশনের অভাবে কক্ষের অক্সিজেনের মাত্রা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নবজাতকরা তা সহ্য করতে পারেনি।

ঘটনাস্থলটির ওই পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই সিলগালা করেছে। তবে হাসপাতালে তখন দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় পুরো হাসপাতালকে হঠাৎ করে বন্ধ করা যাচ্ছেনা—এমন অবস্থায় মন্ত্রী বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হবে এবং আগামী রবিবারের মধ্যে হাসপাতালের ব্যাপারে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে ‘লোক দেখানো’ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না বলে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন। তিনি বলেন, সচিব, মহাপরিচালক ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদার করা হবে এবং ঠিক করা কঠোর আইনি ব্যবস্থাগুলো কার্যকর করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বদ্ধ ঘরে মানুষ বা শিশু রেখে যাবার সাহস না করে।

তদন্ত কমিটি বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্সের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের পূর্বানুমতি ও ভবন পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে; মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এই সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

এদিকে, মন্ত্রী জানিয়ে দেন, এ ঘটনাকে শুধুমাত্র পেশাগত অবহেলা হিসেবে দেখা হবে না—এটি একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ। ঘটনার সম্পর্কে ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আবেগে অনেক স্বজন ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুদের দাফন বা মরদেহ নিয়ে গেছেন, যা আসামিরা আইনি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে; তবুও ঘটনাটি গোপন কিংবা অস্বচ্ছ নয় এবং প্রমাণ স্পষ্ট—মন্ত্রীর বিশ্বাস, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের ছাড় দেবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে নিয়মিত জুম মিটিং করে নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা দিন দিন আরও কঠোর করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo