1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে ৮ বছর বয়সী গৃহকর্মীর মৃত্যু পুলিশ ইউনিফর্মে বদল: জেলা-ইউনিটে গাঢ় নীল ও খাকি, মহানগরে লাইট অলিভ ধানমন্ডিতে ১০তলা ভবনের বারান্দা থেকে পড়ে ৮ বছরের গৃহকর্মীর মৃত্যু গুজব ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি রোধে সরকার কঠোর হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী: সারাদেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বোর্ড পরীক্ষা হবে সাবেক ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে

বিদ্রোহে ভাঙল তৃণমূল: রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়া তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ৫৯ জন বিদ্রোহী বিধায়ক একযোগে 움직িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য্যায়কে তাদের দলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করে বিধানসভা স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেন। একই সময়ে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গে দলীয় সব সাংগঠনিক কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে এবং নতুন করে সংগঠন পুনর্গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পটভূমি: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে দলের ভেতরে অসন্তোষ লেগেই ছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিরোধীরা আগে থেকেই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ অনুযায়ী জোট করে চলার ছক কষতে থাকে এবং কয়েক দফা অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্য হয়। শুরু হয় স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ—কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে দলের কিছুক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে; সেই জিজ্ঞাসায় সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়।

ঘটনা ক্রমে তীব্র হয়: দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা-বৈঠক ডাকা হলে উপস্থিতি অত্যন্ত কম থাকে। কালীঘাটে ডাকা এক বৈঠকে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৭ জন উপস্থিত ছিলেন, ফলে বৈঠক ভেস্তে যায়। এর পরেই বিরোধী শিবির আলাদা ভাবে সম্মেলন করে এবং পরে তারা স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত চিঠি দিয়ে নিজেদের পৃথক পরিষদীয় দল ঘোষণা করে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন দলের নেত্রী হিসেবে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যাবক্তিকেই মানছেন।

দলের সিদ্ধান্ত ও পুনর্গঠন: তৃণমূলের নেতৃত্ব জানায়, রাজ্যের সব জেলা, জেলা কমিটি ও শাখা সংগঠনসহ সব স্তরের সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। পর্যালোচনা কমিটি তৈরি করে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার নিরীক্ষণের পরে নতুন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। সূত্র বলছে, জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত কারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কারা দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছেন—সবকিছু যাচাই করে পুনর্গঠন করা হবে।

বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একদিকে এটি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাই, অন্যদিকে ক্ষমতা খর্ব হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব পুনর্বহাল করার পরিকল্পনাও এতে জড়িত। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক জটিল—নির্বাচনী পরাজয়, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও অনেক বিধায়কের বিদ্রোহ সব মিলিয়ে দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মাঠ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ: তৃণমূল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জিতেছিল। বিদ্রোহী শিবিরের দাবী ও স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া দস্তাবেজে তাদের ৫৯ জনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং সেটি আরও বাড়বে বলে তারা জানিয়েছে। এখন নজর থাকবে স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, ব্যক্তিগত দলীয় পুনর্গঠন কতটা সফল হয় এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্পর্ক কেমন মোড় নেয়—এসবই আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের রাজনীতির নতুন চিত্র গঠন করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo