1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে ৮ বছর বয়সী গৃহকর্মীর মৃত্যু পুলিশ ইউনিফর্মে বদল: জেলা-ইউনিটে গাঢ় নীল ও খাকি, মহানগরে লাইট অলিভ ধানমন্ডিতে ১০তলা ভবনের বারান্দা থেকে পড়ে ৮ বছরের গৃহকর্মীর মৃত্যু গুজব ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি রোধে সরকার কঠোর হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী: সারাদেশে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বোর্ড পরীক্ষা হবে সাবেক ডিবি এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে

খানজাহান আলী মাজারের পুকুরের মানুষ-খেকো কুমির খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহঃ) মাজার সংলগ্ন দীঘি থেকে উদ্ধার করা সেই মানুষ-খেকো কুমিরকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আয়োজিত কার্যক্রমে কুমিরটি নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কুমিরটিকে খুলনা কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি যৌথ দল বুধবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ওই কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনায় পাঠায়।

নির্মল কুমার পাল জানান, খুলনা কেন্দ্রে প্রথমে ৪ থেকে ৭ দিন ব্যপী নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটিকে স্থায়ীভাবে কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হস্তান্তরের সময় খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বনকর্মী, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়ে কুমিরটি ধরার জন্য বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে উদ্ধার করা হয়েছে। দলটি কুমিরটির আচরণ ও শারীরিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে।

এর আগে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয় যে, দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মাজার সংলগ্ন পুকুরের কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। ওই বৈঠক রাত ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়; সভায় জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন সভাপতিত্ব করেন। জেলা প্রশাসক সভার পরে বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত প্রায় ৮টায় মাজার সংলগ্ন পুকুরে গোসল করার সময় আট বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন, কুমিরটি শিশুটির পায়ে কামড় দিয়ে তাকে পানির নিচে টেনে নেয়। পরের ভোরে মাজার সংলগ্ন মহিলা ঘাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এমন আগের ঘটনাও ছিল; গত ১০ এপ্রিল একই দীঘির প্রধান ঘাটে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যায়। এসব ঘটনার পর কুমিরটিকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইতিহাস, লোককাহিনী ও জনদুর্ভোগ নতুন করে জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হযরত খানজাহান (রহঃ) মাজারের সামনে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর আগে খননকৃত দীঘিতে মিঠাপানির কুমির রেখে দেন—প্রধান কুমিরদেরকে ‘কলা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ বলা হতো; পরে তাদের বংশধররাও ওই নামেই পরিচিতি পেত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওই নৃতত্ত্বের সর্বশেষ বংশধরের মৃতু্য ঘটেছিল ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে।

বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন বলেছে, নিরাপত্তা জোরদার করা, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর না ঘটার জন্য পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের অনুরোধ করা হয়েছে, মাজার সংলগ্ন পুকুর এলাকায় অনধিকার প্রবেশ না করার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo