পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি পদত্যাগপত্রে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেন যে, ‘‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে আমি আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’’ তিনি আবেদন করেছেন দ্রুতপূর্বক এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হোক।
দীপেন দেওয়ান পেশায় আইনজীবী। আগে তিনি সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনৈতিক জীবনে যোগ দেন এবং তখন থেকেই বিএনপির সঙ্গে সক্রিয় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে রাঙামাটি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং পরে জেলা সভাপতির দায়িত্বে দেখা যায়; তিনি জেলা সভাপতি হিসেবে কাজ করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও দলের সিদ্ধান্তে অন্য প্রার্থী মনোনীত হওয়ায় প্রতিযোগিতা করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এরপর ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; নির্বাচনে তার প্রতীক ছিল ‘ধানের শীষ’। বর্তমান সরকার গঠনকালে ১৭ বছর পর ক্ষমতায় ফেরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।