1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাণিসম্পদমন্ত্রী: এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি পশু কুরবানি হবে মক্কায় হজে আরও তিন বাংলাদেশির মৃত্যু সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকবে না, নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একদিনে ৬ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি ইউনিসেফ সাতবার রিমাইন্ডার দিলেও টিকা নেনি পূর্ববর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদ্মা সেতুতে ১২ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৩৯৮ যান পারাপার, টোল আদায় ২ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা সন্ত্রাসীরা যতই ঝামেলা করুক, আমরা প্রতিহত করব: এসপি মাসুদ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণে মার্কিন হামলা, শান্তি চুক্তি অনিশ্চিত

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী—যার ফলে চলছে থাকা যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আঘাতগুলো ‘আত্মরক্ষামূলক’ উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে এবং এসব হামলা ইরানিদের সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ছিল। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন এবং মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা কিছু নৌযান।

সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সতর্কতা বজায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তার প্রতিরক্ষা করেছে। তিনি জানান, হামলা পরিচালিত অঞ্চলটি ছিল বান্দার আব্বাস সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চল—একটি কৌশলগত সমুদ্রবন্দর যেখানে ইরানের বড় একটি নৌঘাঁটি রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পজিশন অবস্থিত।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের মত শব্দ শোনা যাওয়ার পর ইরানি কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছেন। এখনো ইরানের তরফ থেকে এই সর্বশেষ হামলায় আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, ফলে এর ফলে চলমান শান্তি আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির ওপর কী প্রভাব পড়বে তা স্পষ্ট নয়।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনই নেই। তিনি বলেছেন, ‘‘আলোচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা অগ্রসর হয়েছি—এটা ঠিক। কিন্তু সেটি মানেই এখনই কোনো চুক্তি সম্পন্ন হবে, এমন কোনো দাবি করা যায় না।’’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা চালাচ্ছেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং আলোচকদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি মার্কো রুবিওও এক পর্যায়ে বলেছেন যে সোমবারের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হতে পারে—যদিও রুবিওর পরিচয় রাজনৈতিকভাবে পুলিশিত ভূমিকা থাকা একজন নেতা হিসেবে বিবেচিত।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ৬০ দিন বাড়ানো, হরমুজ প্রণালিটি বন্ধ থাকা পরিস্থিতি শিথিল করে পুনরায় নৌপরিবহন স্বাভাবিককরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেন্সিটিভ বিষয়গুলো—যেমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা তহবিল ছাড়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ—পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে যে ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কিছু নেতা বর্তমানে গোপন স্থানে রয়েছে; এসব খবরে আলোচনা এগোতে ধীরগতির কারণগুলো হিসেবে এমন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

পটভূমি: ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে ব্যাপক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন সমর্থিত অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায় এবং একটি সময়ে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উঠে যায়।

অপরদিকে ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে; এই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী কিছু ইরানি বন্দর অবরোধে চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক হামলা শান্তি আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কূটনীতি উভয়েরই পথে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, সেন্ট্রাল কমান্ড বিবৃতি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo