খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরবাসীর স্বল্পদৈর্ঘ্যের কোরবানি ও নগরপরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত ও নিষ্ঠাভরে পশুবর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, শহরের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট ১৪০টি কোরবানি স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এসব স্থানে পশুবর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কেসিসি’র পক্ষ থেকে প্লাস্টিক বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে।
প্রশাসক মঞ্জু এই কথা বলেন গতকাল রোববার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা কালে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার সুযোগে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি এই আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক ৩১টি ওয়ার্ডের ৭২৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে ব্যাক্তিগত চেক তুলে দেন; মোট অনুদানের পরিমাণ হয়েছে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কেসিসি’র মূল কর্মীবাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কাজ ও ত্যাগের প্রশংসা করেন।
প্রশাসক আরও বলেন, কোরবানির সময়কালীন নগরসাফাইতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ড্রেনে রক্ত বা অন্য কোনো বর্জ্য ফেলা যাবে না; কোরবানির বর্জ্য অবশ্যই নির্ধারিত জায়গায় রাখা হবে যাতে দ্রুত সংগ্রহ ও অপসারণ করা যায়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার এবং বর্জ্য ধারণের বস্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দিনগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসক জানান, দুপুর থেকেই রাত ১০টা পর্যন্ত কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের চেষ্টা চালানো হবে। ভবিষ্যতে নগরের রাস্তা প্রতিদিন দুবার ঝাড়– দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
অতিরিক্ত করে তিনি নগরের জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। নগরীর ২২, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১নং ওয়ার্ডে স্লুইচ গেটগুলি দ্রুত মেরামত করে জোয়ারের পানি বন্ধ করার কাজ তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাথে ছিলেন নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন যাতে একটি গ্রীন ও ক্লিন শহর উপহার দেওয়া সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সচিব মোঃ রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ।