প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলে কি সত্যিই কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়? এই প্রশ্নই তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আপত্তিকর ভাবনাগুলো তুলে ধরেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী নয়, সেই এলাকার উন্নয়ন কি কখনো হবে? উন্নয়ন বৈষম্যহীন করার জন্য সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক জরিপ, যেখানে লাগছে রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন। ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধে ভিত্তি করে একটি সুন্দর ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব কি না সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ৭৫ এর আন্দোলনের দেশের ইতিহাস, বলছিলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে যারা সামরিক নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, আজো সেই সংগ্রামের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমানে বৈষম্য ও অন্যায় অবিচার বাড়ছে, যা ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। সেই আন্দোলনের স্বপ্ন, সমতা আর ন্যায়বিচার এখন আর চোখে পড়ে না। বরং, উন্নয়নের নামে নতুন ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে একাট্টা বিশ্বাসঘাতকতা।’
দেশের রেল যোগাযোগের অবস্থা খারাপের দিকে এগিয়ে চলার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, বলেন, ‘বিশ্বে যখন রেল যোগাযোগ সফলতার শিখরে পৌঁছাচ্ছে, তখন আমাদের দেশে এই খাতটি পিছিয়ে পড়েছে। আধুনিকায়নের জন্য এখনো চলমান পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের প্রয়োজন। আগামী বাজেটে প্লেস্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিসহ আধুনিক রেলব্যবস্থার নির্মাণে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে, যেহেতু দেশকে কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন রাখা যাবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। শ্রমিক সংগঠনের সংখ্যাও সীমিত করে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে, বড় কারখানাগুলোতে বেশি সংগঠন থাকলে শ্রমিকরা শ্রম ও মালিকদের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা বাড়াতে সক্ষম হবে। এতে দাবি ও অধিকার আদায় আরো সহজ হবে।’