“যদি তারা সাহস দেখায়—৭০ ওভারে ২৬০ রানের টার্গেট দিলে আমরা তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় তারা তা করবে না।” চতুর্থ দিনের খেলায় এমন চ্যালেঞ্জ দিয়ে সামান্য হুমকিও দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আলী আঘা। কিন্তু সেই মাইন্ডগেমের চ্যালেঞ্জ নিতে দেরি করেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের কয়েক মিনিট আগে শান্ত ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে টার্গেট তাড়া করতে পাঠালেন—সালমান যা চেয়েছিল, তাই মিলল।
তবে আঘা নিজেই সেই চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেননি। ডানহাতা এই ব্যাটসম্যান মাত্র ২৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। পাকিস্তানের ইনিংস শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের আঘাত লাগে—ইমাম-উল হক প্রথম ওভারেই কটবিহাইন্ড হয়ে হাঁটেন ফিরে (৫ বলে ২)। আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫। দলের হয়ে শান মাসউমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
পাকিস্তান ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়লেও চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আঘার ৫১ রানের জুটিতে চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। ফজল ১১৩ বলে ৬৬ রান করে এক ফিফটি তুলে নেন; ১১টি চারের সাহায্যে তিনি তাসকিনের করে তুলে দেওয়া বলেই তাইজুল ইসলামের হাতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। পরের ওভারেই তাসকিনই সালমান আঘাকে ফেরান (২৬ বলে ৩৯)।
পাকিস্তান ফের একবার চাপে পড়লে ষষ্ঠ উইকেটে শঙ্কা কাটাতে চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু নাহিদ রানার টানা দুই ওভারে ওই দুই ব্যাটারকেই সাজঘরে পাঠান—দুইজনই করেন মাত্র ১৫ রান। এরপর তাইজুল হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এবং শেষে পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট তুলে নেন নাহিদ; মাত্র ৪০ রানের খরচায় তিনি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ফলে পাকিস্তান অলআউট হয়ে থামে ১৬৩ রানে।
নাহিদের আগুনঝরা বোলিং ও দিনের শেষ ভাগে গতিশীল আক্রমণে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়—পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে আটকে রেখে টাইগাররা অর্জন করে ১০৪ রানের বড় জয়। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নাজমুল হোসেন শান্তের দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
বলে দেওয়া ভালো যে, ম্যাচের পেছনটাও রোমাঞ্চকর ছিল। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে শান্তের সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে বাংলাদেশ আগে ৪১৩ রান করেছিল। জবাবে আজান আওয়াইসের শতকে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৮৬। ফলে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডে রেখেছিলেন। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে এবং পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।
এছাড়া ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম দুইটি করে উইকেট নেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন। বাংলাদেশের জন্য এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়—স্মরণ করিয়ে দেয় ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস রচিত প্রথম জয়ের কথা এবং পরে সেই সফলতা ভিন্ন মঞ্চেও দলের ধারাবাহিকতাকে প্রমাণ করে।