1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রূপসার পিঠাভোগ: ঠাকুর বংশের ঐতিহ্য

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের প্রতিস্ঠিত কবি ছিলেন না—তিনি বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিচয়ের এক অনিবার্য প্রতীক। তাঁর পরিবারগত শিকড় খুঁজলে রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের সাথে জোড়া ইতিহাসটি চলে আসে। রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ পল্লী ঠাকুর বংশের পৈতৃক স্মৃতিবাহী স্থান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিঠাভোগ-ঘাটভোগ ভৈরব নদীর তীরভূমিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ। ভৈরব অববাহিকার স্রোতের ধারায় বহু প্রাচীন বসতি গড়ে উঠেছিল; ইতিহাসে জানা যায়, হযরত খানজাহান আলীর আগমনেরও আগে এখানেই জনপদ গড়ে উঠেছিল। পিঠাভোগের প্রাচীন গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর মধ্যে কুশারী গোত্র বিশেষভাবে পরিচিত।

কুশারী বংশের উত্‍পত্তি কন্যাকুঞ্জ (কান্যকুব্জ) থেকে আগত শাণ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রাহ্মণদের সঙ্গে যুক্ত। বংশগাথায় বলা হয়, খিতীশ নামক এক শাণ্ডিল্য বংশীয় পুরুষের বংশধর বঙ্গদেশে সারি জুড়ে বসতি গড়েন এবং বর্ধমানের ‘কুশ’ গ্রাম থেকে কুশারী গোত্রের উৎপত্তি ঘটে। মধ্যযুগে কুশারী বংশের বিভিন্ন শাখা ঢাকা, বাকুড়া ও খুলনার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। খুলনার পিঠাভোগে উত্তর পার্শ্বে রামগোপাল কুশারী বসতি স্থাপন করেন; তাঁর পুত্র জগন্নাথ কুশারীই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের মূল পুরুষ বলে পরিচিত।

পিরালী জাতের সংক্ষিপ্ত কাহিনি ঐ অঞ্চলের সামাজিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত অধ্যায়। খুলনা জেলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের রায়-চৌধুরী পরিবার থেকে সৃষ্ট পিরালী ব্রাহ্মণের উত্পত্তি সম্পর্কিত কথারা এলাকায় প্রচলিত। ঐ সময়ের প্রশাসনিক পরিবেশ, স্থানীয় সম্পর্ক ও ধর্মান্তরের ঘটনাবলি মিশে গিয়ে পিরালী শাখার আবির্ভাব ঘটে। ইতিহাসে উল্লেখিত এক বিবরণের সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত সংঘর্ষের ফলে কিছু পরিবার ইসলাম গ্রহন করলে অন্য কিছুকে পিরালী নামে ডাকা হয়; এই বংশেই পরবর্তীতে পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ঘটে।

কুশারী থেকে ‘ঠাকুর’ উপাধি উদ্ভবের কথাও লোকজ এসেছে। পঞ্চানন কুশারী নামে এক ব্যক্তি ভাগীরথীর তীরবর্তী গোবিন্দপুরে (কলকাতা-অঞ্চলের কাছে) বসতি স্থাপন করেন। তিনি নৌ-সংক্রান্ত ব্যবসা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের কাজ করায় স্থানীয় নাবিক ও শ্রমিকরা তাঁকে আনৈতিক সম্মানসূচকভাবে ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করেন; সময়ের ধারায় সেই ডাকটি উপাধি হয়ে যায়। পঞ্চাননের সেই বংশধর নীলমণি ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে বসতি স্থাপন করেন। ঐ বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে ১৮৬১ সালে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম বিস্তৃতি ও বৈচিত্র্য অনন্য—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও নাটকসহ বহু শৈলীর মধ্যে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর রচনাবলি ব্যাপক: প্রায় ৫২টি কব্যগ্রন্থ, আনুমানিক ২০০০ গান, কুড়ি-প্লাস উপন্যাস ও অচিন্ত্যনীয় সংখ্যক ছোটগল্প ও প্রবন্ধ—এক কথায় সমগ্র জীবন জুড়ে সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর মূল আকর্ষণ। তাঁর সমগ্র রচনা ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ হিসেবে ৩২ খন্ডে সংকলিত হয়েছে; চিঠিপত্র পৃথকভাবে ১৯ খন্ডে প্রকাশিত আছে। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনৃত্যের প্রবর্তক; আর শিল্পচর্চায় তিনি সত্তর পেরিয়ে চিত্রাঙ্কনে মন দেন—প্রায় ২৫০০-এরও বেশি স্কেচ ও ছবি আঁকা রেকর্ড করা আছে, যার একটি বড় অংশ শান্তিনিকেতনেই সংরক্ষিত। ১৯২৬ সালে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক দিক থেকেও তা প্রশংসিত হয়।

কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্য ও সাহিত্যকর্ম — ‘কবি কাহিনী’, ‘বনফুল’, ‘মানসী’, ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘গীতাঞ্জলি’— এবং উপন্যাসের মধ্যে ‘গোরা’, ‘ঘরে বাইরে’, ‘চতুরঙ্গ’, ‘নৌকাডুবি’ ইত্যাদি জাতীয় ও আঞ্চলিক পাঠকপ্রিয়। নাটক, প্রবন্ধ ও অনুবাদ-রচনাতে তাঁর অবদান সমসাময়িক বিষয় ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে গভীর প্রভাব ফেলে।

শেষ কথা—পিঠাভোগ কেবল একটি গ্রাম নয়; এটি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও কুশারী-ঠাকুর বংশের ইতিহাস সংরক্ষিত একটি ঐতিহ্যভূমি। যদিও বংশের কিছু শাখা বাড়তি সম্পদ ও সামাজিক অবস্থান লাভ করলেও সময়ের সাথে বিচার-বিবাদ ও বিভাজন তাদের জীবিকা ও সম্পত্তি প্রভাবিত করেছে। তবু পিঠাভোগের কুশারী বাড়ি বাঙালি ইতিহাসে একটি স্মরণীয় স্থান হিসাবে থেকে যায়—রবীন্দ্রনাথকে ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

সূত্র: যশোর–খুলনার ইতিহাস

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo