1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

নিয়ামতপুরে জমি-বিতণ্ডায় শ্যালকের পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা, ৩ জন গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার সময় ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জমি বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল—এ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নি সবুজ রানা (২৫), নিহতের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল। পুলিশ বলেছে, তাদের মধ্যে দুই জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে; আরও কয়েকজনকে স্বল্প সময়ের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে গত রাতে (২০ এপ্রিল মধ্যরাতবর্তী সময়) নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫) এবং তাদের দুই সন্তান—৯ বছরের পারভেজ ও তিন বছরের সাদিয়া আক্তার—একসঙ্গে খুন হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে সবুজ রানা ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে খাবার খায়। পরে সে ওই এলাকার শহিদুল ও শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে পাঁচজনের একটি গ্রুপ হাবিবুরের ঘরে ঢুকে হামলা চালায়। প্রথমে শাহিন বড় একটি হাসুয়া দিয়ে হাবিবকে জবাই করে; এরপর অন্যরা ঘরের অন্য সদস্যদেরও হত্যাকাণ্ড চালায়। হত্যার সময় নমির উদ্দিনের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে ছিটকানি লাগিয়ে রেখেছিল তারা যাতে বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে বের হতে না পারে।

পুলিশ বলেছে, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকারের জমিজমা নিজেদের পক্ষে কনফিগার করা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে; তার ছেলেকে ১৩ বিঘা ও প্রতিটি মেয়ে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেয়ার পর থেকে পরিবারের মধ্যে বির্তক চলছিল। পুলিশ ধারণা করেছে, সবুজ এবং কয়েকজন অন্য ব্যক্তি যদি হাবিব ও তার সন্তানদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারত, তাহলে জমির ভাগের পরিস্থিতি তাদের পক্ষে অনুকূল হবে—এই কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের একটি শাহিনের বাড়ির কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়; আরেকটি ছুরি পরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিযামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যার মামলা দায়ের করেছেন। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিয়েছে এবং নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা না হয়।

পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে আরও বিস্তৃত তদন্ত করবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য জটিলতা তদন্তরত পুলিশ পরবর্তী সময়ে জানাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo