চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার বলে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশের কাছে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কড়া বৃদ্ধিই দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানও বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
একক মাস হিসেবে গত মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ; অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে প্রভাবিত করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ার ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে গেছে, ফলত প্রবাসীরা যখন টাকা পাঠাচ্ছেন তাতে দেশে পৌঁছানো টাকার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে—এটিই রেমিট্যান্স বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে বিশ্লেষকরা জানান।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। রেমিট্যান্সের এই সংগ্রহশীল বৃদ্ধি ছন্দ ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে।