1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী উত্তরের চার জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা শিক্ষামন্ত্রী: বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার কেন্দ্র হতে হবে

ইরান সংকট: ৫০ দিনে তেলের ক্ষতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

প্রায় ৫০ দিন ধরে চলমান ইরান-সংকট বিশ্ববাজারে কাঁচা তেলের সরবরাহকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে; এর আর্থিক ক্ষতিই দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিশ্ববাজারের ডাটা বিশ্লেষকরা।

বৈশ্বিক পণ্য ও বাণিজ্যের লাইভ ডাটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ডাটার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুরির শেষের পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে আধুনিক অর্থনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

কেপলারের বিশ্লেষকদের হিসাব মতে, এই পরিমাণ তেল বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ দিনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারত। তুলনামূলকভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসের তেলের চাহিদার সমান কিংবা ইউরোপের এক মাসেরও বেশি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট।

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে গত মার্চ মাসে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৮০ লাখ (৮ মিলিয়ন) ব্যারেল কমে যায় — যা বিশাল পরিসরের ক্ষতি এবং কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানি এক্সনমোবিলের সম্মিলিত উৎপাদনের কাছাকাছিও বলা হচ্ছে।

একই সময়ে জেট ফুয়েল রফতানিতেও বিপুল অবনতি দেখা গেছে। কেপলারের ডেটা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান মিলিয়ে রফতানি ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ (প্রায় ১৯.৬ মিলিয়ন) ব্যারেল; কিন্তু মার্চ ও এপ্রিল মিলিয়ে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১ লাখ (৪.১ মিলিয়ন) ব্যারেলে।

তেলের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ধরে কেপলারের গবেষক জোহানেস রাউবল বলেন, এই সরবরাহঘাটতির আর্থিক মূল্য আনুমানিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

যদিও হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হয়েছে, তবুও পুনরায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে — এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কুয়েত ও ইরাকের ভারী তেলক্ষেত্র পুরনো অবস্থায় ফিরতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় নেবে বলে তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন।

আরও গুরুতর হলো আঞ্চলিক কিছু শোধনাগার ও কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সে যে ক্ষতিগুলো হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকটের প্রভাব মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সীমিত থেকে যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং এটি কয়েক বছর পর্যন্ত বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে রিসোর্স ও মূল্যগত প্রভাব রাখতে পারে।

বাজার ও ভোক্তা উভয়পক্ষকেই এখন সতর্কভাবে সামনের খবর পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ সরবরাহের পুনরুদ্ধার ও অবকাঠামোর মেরামত কত দ্রুত হবে—তার ওপর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য ও অর্থনৈতিক ধারা নির্ভর করবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo