1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়াতে পারে

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে দেশের মুদ্রার মান কমে যাবে এবং জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দুটি বড় চাপের ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ ছাড়াতে পারে। পাশাপাশি, বাড়তি আমদানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়বে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি যদি এ রকম হয়, তাহলে দেশের রিজার্ভ ৩১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং আমদানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসতে পারে এবং দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পাবে।

এছাড়া, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ধরনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি গত প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং পরে আরও ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। আবার, যদি ডলার বিপরীতে টাকার মান একাধিক পর্যায়ে প্রায় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১১.৬৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সময়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলার থেকে কমে ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে নেমে আসতে পারে।

প্রতিবেদনগুলো বলছে, এসব হিসাবের পেছনে বিভিন্ন অনুমানে ভর করে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। যদি বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের বড় রকমের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, তবে আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং সেটা রিজার্ভে চাপ তৈরি করবে। অপরদিকে, যদি সরকার অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি করে বা জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে, তবে মূল্যস্ফীতির চাপ মন্থর হবে।

অন্যদিকে, যদি বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি হয় এবং এর জন্য ডলার বিপরীতে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতির জন্য আরও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। টাকার অবমূল্যায়নের ফলে মুদ্রাবাজার অস্থির হয়ে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যার ফলে রিজার্ভ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সর্বশেষ, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং ডলারের দাম কিছুটা বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু নমনীয়তা অবলম্বন করতে হতে পারে। পাশাপাশি, সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জ্বালানি তেলের দাম সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন পড়ে।

সার্বিকভাবে দেখা যায়, তেলের মূল্য বৃদ্ধি আর ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন দ্রুত মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর মূল কারণ, যা সরাসরি ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের সমন্বিত নীতিতে পরিবর্তন জরুরি, যাতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি কম হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo