1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: হরমুজ প্রণালিতে কোনও বাংলাদেশি জাহাজ আটকে থাকবে না প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান হবে: কৃষিমন্ত্রী দুপুরে জামিন, সন্ধ্যায় কাশিমপুর থেকে মুক্তি পেলেন শিরীন শারমিন প্রথম পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড: কৃষিমন্ত্রী জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

৮ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার; আমদানি বাড়ায় চাপ

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলারে—যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন (৪,৬১৭ কোটি) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন (৩,০০৩ কোটি) ডলার—গত বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ২.৬ শতাংশ বাড়ল। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, বিভিন্ন ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে গোটা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সহমতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম উর্ধ্বগামী থাকায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি সীমিত থাকায় ঘাটতি বাড়ছে। তারা সতর্ক করেছেন—অস্থির আমদানির ধারা নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত নীতিমূলক পদক্ষেপ না নিলে দেশের বৈদেশিক ব্যালান্স আরও চাপে পড়বে।

চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পরিস্থিতি এখনও সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

সমগ্র লেনদেনের পরিপ্রেক্ষিতে (ওভারঅল ব্যালান্স) বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সঙ্কেত আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২,২৪৫ কোটি ডলার; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার—প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েছে।

তবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে—গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার; চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে পরটফোলিও বিনিয়োগও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নেট বিদেশি বিনিয়োগে নেমে এসেছে ৮ কোটি ডলার (ঋণাত্মক), যা আগের বছরটিও একই রকম ছিল।

সংক্ষেপে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে উদ্বৃত্ত রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক ব্যালান্স ভালো হওয়ার পরও দ্রুত বাড়তি আমদানি ও তুলনামূলকভাবে ধীর রপ্তানি বৃদ্ধিই পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক ব্যালান্স স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রকৌশল উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত কর্মসূচি নেওয়া জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo