1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাট থেকে এক কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে এ দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সরগরমি শুরু হয় এবং ঘটনার真তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ অনুযায়ী, মাজার এলাকায় একমাত্র কুমির ধলা পাহাড় ঘাটে অবস্থান করছিল। ঘটনার দিন কুকুরটি অসুস্থ মনে হচ্ছিল এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেই কামড় দিয়েছে বলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কুকুরটি নিজে থেকেই ঘাটে নামে; কিছু সময় পর কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা তাকে মাটি চাপা দেয়।

একটি ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে থাকা ভিডিওতে দেখা যায় কুকুরটি অর্ধেক পানিতে তলিয়ে আছে, পরে পানির গভীরে নামার চেষ্টা করে এবং কুমির কাছে এসে কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধারণা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে; কেউ কেউ বলছেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু লোক খাদেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনাস্থলে অনেক দর্শনার্থী ছিলেন। কুকুরটি হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। পরে অন্যকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে ফোরকান কুকুরটিকে থামাতে চেষ্টা করেন; কুকুরটি পানির দিকে নেমে গেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে কুমির এসে কুকুরটিকে পানি থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ অন্য পাশে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেটি মাটিচাপা দেয়।

মাজার সংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তারও বলেন, কুকুরটি আগে থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল, তাঁর দোকানের সামনে কয়েকজনকে কামড়িয়েছে, এক তিন বছরের শিশুকেও গ্রাসের চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন পোলাপান খেয়েছে। তাই এখানে এখন মিথ্যা গল্প ও ভিত্তিহীন অভিযোগও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পাড়ায়; ডিম পাড়ার পরে মা কুমির একটু হিংস্র হয়ে যায়। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কিন্তু সেখানে অনেকেই ভিডিও করেছে এবং কাউকে কুমিরের মুখ থেকে কুকুর ছিনিয়ে আনতে অনেকে সাহস পায়নি।

খাদেমরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে এআই বা মিছমিছ তথ্য ব্যবহার করে মূল ঘটনা বিকৃতি করা হয়েছে। তাদের দাবি, কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে দিঘিতে ফেলেনি; কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং নিজে থেকেই ঘাটে নেমেছিল। প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামও ঘটনার অনাকাঙ্ক্ষিততা স্বীকার করে বলেন, ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের কারণে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসক আতিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং কুকুরটির মাথা সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, রিপোর্ট পেলে কুকুরটির অসুস্থতা বা জলাতঙ্কের মতো রোগ ধরা পড়েছে কিনা তা জানা যাবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)–র সদস্য শেখ মোহাম্মদ নূর আলম বলেন, যদি প্রমাণিত হয় কেউ বিনোদন বা ভিউ বৃদ্ধির জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ঠেলে দিয়েছে, তাহলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে কখনও কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়নি এবং এমন কাজ করা হয় না—যদিও অনেকে কুসংস্কারের কারণে বেঁচে থাকা প্রাণি ছুড়ে দিতে চাইতে পারেন। তিনি খাদেম ও দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কোনো জীবিত প্রাণি দিঘিতে না ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধও করেন।

পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে প্রাচীনকাল থেকে কুমিরের বংশধর রাখা হলেও বর্তমানে ঐতিহ্যগত প্রাচীন কোনো কুমির নেই। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে একটিই এখনো দিঘীতে আছে এবং ঐ কুমির আগেও কয়েকবার মানুষের উপরে আক্রমণ করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি দ্রুত কাজ করছে; প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo