1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামল

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে: বছরজুড়ে আর্থিক চাপের কারণে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তারই প্রভাব পরস্পরেই পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এ ব্যয় গত এক দশকে সবচেয়ে ন্যূনতম; আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা — তাতে এই বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমতি রয়েছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্যগুলো আরো বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার ওপরে, যা ৪৫ শতাংশেরও বেশি।

খাতের প্রতিনিধিরা ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার সঙ্গে প্রকৃত আর্থিক চিত্রের ফারাক খুলে পড়ে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসান সামনে আসে এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপগ্রস্ত হয়। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যাংকাররা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় হ্রাসে একটি বড় কারণ। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেকে অনুরোধ পেত — শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যয় করতে হতো; এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই এসব খরচ সিএসআরের প্রকৃত আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকারের পরিবর্তন পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যায়; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বিবেচনা করে সিএসআর ব্যয় করছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: তাতে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলা আছে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যায়। বাস্তবে অনুপাত ভাঙাচোড়া হয়ে গেছে: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে, শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

একই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকাও দেয়া হয়েছে। তাতে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি সিএসআর ব্যয়ের সংকোচনে দেখা যাচ্ছে। এটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে—তাই কেবল ব্যয়ের পরিমাণ নয়, ব্যয়ের লক্ষ্য ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo