1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা ও ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা রোধের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাজী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে বিলটি গৃহীত হয়।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২) বিলটির কঠোর সমালোচনা করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি তোলেন।

বিরোধিতায় সাইফুল ইসলাম মিলন উচ্চস্বরে বলেন, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। তার বক্তব্য, এই বিল আমানতকারীদের নিরাপত্তা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং অতীতে রাজ্য কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানোর উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—সেসব টাকা সাধারণ করদাতারই ছিল। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে কোনও অপবাদমুক্ত বা ভঙ্গুর আইনি ধাঁচ থাকলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁকফোকর খুঁজে পেয়ে পলায়ন করতে পারবে।

মিলন আরও যুক্তি দেখান যে পূর্বের নিয়মে ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রথমেই ক্ষতি বহন করতেন এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিত থাকতেন। নতুন আইনি কাঠামো সেই চেইন অব কম্যান্ড ভাঙতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে তৈরি বিশৃঙ্খলা রোধে আগের কঠোর বিধান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার জোর দেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা এই বিলের কারণে সংকুচিত হবে বলে সর্তক করেন।

বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা পরিবারের মতো তুলে ধরেন এবং আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও প্রয়োজন হতে পারে—এমন বিশাল অর্থ সাধারণ সময়ের সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন।

মন্ত্রী জানান, বিলটির মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; এর অর্থ লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন পূনর্গঠন করে সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি করা। এতে করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,_bill_passed দায়ীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং বাজারভিত্তিক উপায়ে ব্যাংকগুলোকে সচল রাখাই এই আইনের লক্ষ্য, যাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় থাকে।_

বক্তব্য শেষ হলে সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন; স্পিকার তা ভোটে তোলেন। সরকারি দলের আপত্তিতে কণ্ঠভোটে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা অনুমোদন পায় এবং বিল আইনগত পথে এগোতে রাজপথ খোলে।

বিল পাসের ফলে ব্যাংক সেক্টরে কিভাবে বাস্তবে পরিবর্তন আসবে এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এ সংক্রান্ত বিশদ কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। বিরোধী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাস্তব প্রয়োগ ও তদারকিতে স্বচ্ছতা না হলে উদ্বেগ থেকেই যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo