ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রীষ্মকালীন মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুড ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল দাম প্রায় ২.৬৯ ডলার বা ৩.১ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৭১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২.৯৯ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাশায় হরমুজ প্রণালি আবার চালু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যার কারণে তেলবাজারে এর দামের কিছুটা পতন হয়। দ্রুতই, বিকেলের দিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর সামনে আসতেই আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দোদুল্যমান করে তুলেছে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়, তবে তেল সরবরাহের ওপর এর প্রভাব কতটা গুরুতর হবে, এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত বার্তা আসেনি।
তেলবাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ভান্দা ইনসাইটস-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বন্দনা হরি উল্লেখ করেছেন, শিগগিরই প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণভাবে পুনরায় খোলার সম্ভাবনা খুবই কম, যা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিছু আবহাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
গত বুধবারই যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেয়। ইরানের দাবি, তিনটি মূল শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ও ড্রোন আক্রমণের মতো ঘটনা। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রশ্নেও তারা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এ পরিস্থিতিতে, ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলোতেও চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলছেন, ‘ইরান ও মার্কিন যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। বা তো যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে, বা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণ যুদ্ধ শুরু হবে। এই দুইটি বিষয় একসাথে চালানো সম্ভব নয়। লেবাননের হামলা সব বিশ্ব দেখছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পুরো দায়িত্ব মার্কিন পক্ষের হাতে। তারা কি প্রতিশ্রুতি রাখবে, তা বিশ্ব দেখছে।’ সূত্র: রয়টার্স।