1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ফুয়েল পাস অ্যাপ: রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার—ধাপে ধাপে নির্দেশনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্নের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা মায়ের ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড আবু সাঈদ ভেবেছিলেন মানুষ তার পাশে থাকবেন, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল: ট্রাইব্যুনাল ফুয়েল পাস অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার কিভাবে করবেন সহজে বিল উত্থাপন করতে থমকে গেলেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’ প্রতিনিধি সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে পাঁচটি স্থানীয় সরকার বিল পাস বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’ জামায়াতসহ বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন

যুদ্ধপরিস্থিতির অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়িয়ে যেতে পারে

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে গুরতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ডলার মোকাবেলায় টাকার মান অপ্রত্যাশিতভাবে কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই প্রভাবগুলো মিলিত হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বর্তমান হার থেকে গিয়ে ১২ শতাংশের বেশি পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে, কারণ আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। এতে আমদানির চাপ কমে যাবে এবং টাকার মান অপরিবর্তিত থাকতে পারে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং রিজার্ভের উপর চাপ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজারে তাকে সামাল দেওয়ার জন্য তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হলে, প্রথম প্রান্তিকে এটি ৫ শতাংশ আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরো ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যেখানে বর্তমানে সেটি ৯.৫৬ শতাংশ। আবার যদি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের মূল্যও ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১২.২৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে দেশের রিজার্ভ আরও কমে ২৩০০ কোটি ডলার vicinity-এ দাঁড়াতে পারে।

তবে এই সব হিসাব অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, যা বিভিন্ন জিনিসের ভবিষ্যদ্বাণী ও ধরণ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। যদি জ্বালানি তেলের দাম অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের পরিবর্তন না হয়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে খুব বড়ভাবে বৃদ্ধি পায়, তা হলে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা আরও প্রকট করে তুলবে। এর ফলে মুদ্রার মান কমে যায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, ডলার বিক্রি করে রিজার্ভ কমাতে হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অযৌক্তিক বা হঠাৎ বড় পরিবর্তন হলে, তা ডলারের বিনিময় হারকে দুর্বল করে তুলবে, ফলে মূল্যস্ফীতির উপর বড় ধরনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি অথবা বিনিময় হার বাড়াতে হতে পারে, যা রিজার্ভের উপর Additional চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূলত রিজার্ভের চাপ কমাতে এবং ডলারের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য বিনিময় হার কিছুটা নমনীয়তা আনা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, অর্থনীতির প্রভাব কমানোর জন্য দেশের জ্বালানি তেলের দাম বা রাজস্ব ব্যবস্থায় সামান্য বাড়তি পরিবর্তন জরুরি হতে পারে।

সারসংক্ষেপে বলতে গেলে, বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং ডলারের মানের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে। এর ফলে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেশি হবে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে। উপরন্তু, এসব অনিশ্চয়তা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা থাকছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo