1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল মাসের ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এবছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তাদের বাস্তব আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারছেন না।

রিপোর্টে poverty লাইন হিসেবে ধরা হয়েছে কর্মক্ষম ব্যক্তির দৈনিক আয় তিন ডলারের কম হলে তাকে দরিদ্র ধরা হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই বৃদ্ধি সরাসরি লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর اثر ফেলেছে। ওই সময়কালে আনুমানিক অতিরিক্ত মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পড়েছেন।

বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ না থাকলে চলতি বছরে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বাইরে আসার আশা ছিল। কিন্তু সংঘটিত পরিস্থিতির কারণে এখন কেবলমাত্র প্রায় ৫ লাখ মানুষই সীমার ওপরে উঠতে পারছেন। এর ফল হিসেবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ধরা পড়ছেন—এই হিসাব রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চাপের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের বাস্তব মজুরি কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ধীর গতি—এসবই দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল হচ্ছে না এবং কিছু আন্তর্জাতিক নীতিমালার পাল্টা প্রভাবের ফলে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হচ্ছে—এ পরিস্থিতি কাটাতে বিনিয়োগ-আকর্ষণ সহজ করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি, যদিও বাস্তবায়ন কঠিন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিবেচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেয়াও দরকার।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব অন্তত ছয়টি মূল খাতে পড়তে পারে—হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া, আমদানি-রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি-পরিবহন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়া। এসবের সমন্বয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে, এসব প্রভাবে গিনি সূচক ২০২৬ সালে প্রায় ০.২ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—অর্থাৎ বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও প্রতিবেদকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নীতিগত কর্মপরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদি সোশ্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রসার জরুরি যাতে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা যায় এবং দারিদ্র্য পুনরায় বাড়ার ধারা মেনে করা যায় না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo