জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।
এনএসসি গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে চলমান বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে উদ্ভুট পদ্ধতিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে কাউন্সিলর করে তোলা হয়—যা নিয়মবিরুদ্ধ বলে ধার্য হয়েছে। এই কারণেই বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান আজ (৭ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, এনএসসি ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিশ্বক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নামের তালিকাও আইসিসির কাছে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনার পর এনএসসি মনে করেছে যে বিসিবি কমিটি গঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট দুর্বলতা ও অনিয়ম ছিল। সে কারণেই আইনানুগ ক্ষমতার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আমিনুল এহসান বলেন, এনএসসি দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করে; যেখানে অনিয়ম দেখা যায়, সেখানে পরিষদ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা-২১ অনুযায়ী যদি কোনো নির্বাহী কমিটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে না বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালায়, তবে এনএসসি সেই কমিটি ভাঙ্গার এবং প্রয়োজন হলে অ্যাডহক কমিটি নিয়োগের ক্ষমতা রাখে।
এনএসসির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, গঠিত অ্যাডহক কমিটি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে নতুন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় যারা আছেন, তাদের নাম আইসিসির নোটিশেও পাঠানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
এনএসসি সিদ্ধান্তকে স্থানীয় ক্রীড়া অঙ্গনে জরুরি নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আইসিসির অনুসন্ধান ও স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম কেমন হয়, সেটাই ভবিষ্যৎ নির্দেশ করবে যে বিসিবির নেতৃত্ব পূনরায় স্থিতিশীল হবে কি না।