1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করেনি। তেহরানের দাবিটি স্পষ্ট — ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে শেষ করতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মন্তব্য ও কূটনৈতিক চাপেও প্রতিরোধ গড়েছে; সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যও তেহরানের বিরোধিতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে।

ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী খোলার আবেদন রেখেছিল এবং প্রয়োজন হলে যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিল; তবু কূটনৈতিক পথও খোলা ছিল। কিন্তু ইরানের ওপর পশ্চিমা—বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলি—চাপের মধ্যে তেহরান নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে সীমান্তগত নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানির আনুমানিক ২০ শতাংশ পরিবহন করে; যুদ্ধের আগে এখানে দিনে প্রায় ১০০–১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করত।

এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, এবং ভৌগোলিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণই আছে ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হতেই তেহরান প্রথমদিকে ঘোষণা করে যে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না; পরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হয়। হামলার ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়।

কয়েক দফা গোপন আলোচনা ও দরকষাকষির পরে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সম্প্রসারণ করা হয়; তার বিনিময়ে প্রায়শই ‘টোল’ দাবি করা হয়েছে—কিছু রিপোর্ট বলছে প্রতি জাহাজে প্রায় ১.৫–২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ১০ দফার একটি তালিকা দিয়েছে; সে তালিকায় রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার নিশ্চিত করা, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি দাবি।

যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কনজার্ভেটিভ হিসাব ধরলে, যদি প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন চলাচল আগের মতো হয় (প্রতিদিন ১০০–১৩৫ জাহাজ), তাহলে কেবল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তদুপরি, গ্যাসবাহী জাহাজের ওপর একই ধরনের টোল আরোপ হলে সেখানে থেকে আলাদা করে মাসিক প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে—যদি চলাচল ও টোলের হার একই রকমেই ধার্য রাখা হয়।

বর্তমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—যদি সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি ব্যারেলে বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাচ প্রাথমিকভাবে ৪–১৫ ডলার বলেছে, আর অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তা ২৫ ডলার পর্যন্ত দেখেছে।

তবে এই টোলভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা অন্য প্রশ্ন। এশিয়ার বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে তেল আমদানিবেশগুলো—এমন অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সহ্য করতে পারবে কি না সন্দেহজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে টোল আদায় করে পাওয়া অর্থ যদি পুনরায় সামরিক শক্তি বিকাশে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা নতুন সঙ্কটের জন্মও দিতে পারে—এমনটাই ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

সংঘাত চলাকালীন তেহরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) জাহাজকে পারাপার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরও যদি এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তেহরান ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ পরিচালনা করে ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ইরানকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এবারকার সংঘাতই দেখিয়েছে ইরান কেবল হরমুজেই প্রভাব বিস্তার করছে না, ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান ইরানের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা, প্রতিরক্ষা ইশতেহার ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দিতে পারে—তবে তা একই সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও জাগাবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo