1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জুলাই গণহত্যা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ, অব্যাহতি জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ মামুন খালেদ ফের তিন দিনের রিমান্ডে শপিংমল ও মার্কেট বন্ধের সময় বদল—বিকাল ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ তনু হত্যা মামলায় পিবিআই পরিদর্শক তরিকুলকে কুমিল্লা আদালতে তলব প্রধানমন্ত্রীর অফিস সিদ্ধান্ত নেবে বৈশাখে ভারতের জন্য ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তঃ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা চলছে ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারের হাইকোর্টে জামিনের আদেশ

সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হয়েছে দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম—চিত্রটা যতোটুকু ভয়াবহ ছিল ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে রেকর্ড হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই তথ্য সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সাংসদ আবুল হাসনাতের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সর কামালের সভাপতিত্বে সোমবার (৬ এপ্রিল) উপস্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রীর প্রকাশিত শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো—

১। এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড

২। এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড

৩। সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

৪। এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

৫। সোনালী ট্রেডার্স

৬। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড

৭। গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড

৮। কেমন ইস্পাত লিমিটেড

৯। এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড

১০। ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

১১। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড

১২। দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড

১৩। পাওয়ার প্যাক মুতিারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৪। পাওয়ার প্যাক মুতিারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

১৫। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড

১৬। কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড

১৭। মুরাদ এন্টারপ্রাইজ

১৮। সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড

১৯। বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড

২০। রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড

অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার নানামুখী কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানত যা বলেছে তা হলো—

১) ১০% বা ততোধিক শ্রেণিকৃত ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর সিনিয়ার ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক আলোচনা করে ব্যাংকগুলোকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাতে হবে, যাতে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে বাধাগুলি চিহ্নিত করে তা সুসংহতভাবে সমাধান করা যায়।

২) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকভিত্তিক শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি/শ্রেণিকৃত ঋণের আদায়ের অগ্রগতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই করা হবে।

৩) শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি এমন ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কিত গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে।

৪) ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধিত) আইনে সংজ্ঞায়িত ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপী’ শনাক্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণে বিআরপিডির সার্কুলার নং-০৬ (১২ মার্চ ২০২৪) অনুযায়ী নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

৫) ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান লিগ্যাল টিম/আইন বিভাগ শক্তিশালী করার নির্দেশনা বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪/২০২৪ এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

৬) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপী ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১% নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা (বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১/২০২৪) জারি করা হয়েছে।

৭) ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদ করা হচ্ছে।

৮) IFRS 9 অনুযায়ী Expected Credit Loss ভিত্তিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত এবং ঝুঁকি কমাতে তালিকাভুক্ত জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আরও কয়েকটি কর্মযোজনাও নেওয়া হয়েছে—

১) খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনসমূহ (ব্যাংক-কোম্পানি আইন, Negotiable Instrument Act, অর্থ ঋণ আদালত আইন, Bankruptcy Act) সংশোধনের কাজ চলমান আছে।

২) স্বল্প মেয়াদী কৃষি ঋণের পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালা পর্যালোচনা করে হালনাগাদ করা হবে।

৩) খেলাপী ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

৪) নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের (ভালো ঋণগ্রহীতাদের) জন্য প্রণোদনা সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে।

৫) একজন ঋণগ্রহীতার জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

৬) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের কিছু অংশ প্রযোজ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

৭) অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল/জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা আছে।

৮) খেলাপী ঋণগ্রহীতারা যাতে রিট দায়ের করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থবির করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে এটর্নি জেনারেল মহোদয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

৯) বেসরকারি খাতে Asset Management Company (AMC) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনপ্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঋণ খেলাপির এই চিত্র নিয়ন্ত্রণে সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার প্রত্যাশা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে—এমনটাই সরকার দাবি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo