1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালে ব্যাংকখাতের লোকসান ও সিএসআর খাতে হ্রাস

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে এক কঠিন আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। বছরজুড়ে অর্থনৈতিক চাপে পড়ায় মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। যে ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি, যার প্রভাব পড়ে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের ওপর, যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার প্রকাশিত সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট খাতে কেবল ৩৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। 이는 আগের বছরে বা ২০২৪ সালে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বছরে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস।前年ের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই পরিমাণটাই এখন পর্যন্ত এই খাতের সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড, যা গত দশকে দেখা যায়নি।

আগের বছরের সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ২০১৫ সালে, যেখানে শুধুমাত্র ५২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এরও আগে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আবারও খরচের নিম্নমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে আরও বেশি—প্রায় ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় কমে গেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়, অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট, ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে, যা প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে প্রকৃত লোকসান ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা আগে কাগজে-করা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত অর্থনৈতিক দুর্বলতা উন্মোচন করে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো এই চাপের মধ্য দিয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের বিষয়গুলো পরস্পর জড়িয়ে রয়েছে। সরকার এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়, যাতে তাদের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের এই হ্রাসের পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগের সময়ে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকার যখন আসে, তখন বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য চাপ থাকত। ফলে ব্যাংকগুলো বেশি ব্যয় করত, যেগুলোর অনেকটাই প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেতো। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে এই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বেশি বিবেচনা করে গণমানুষের জন্য প্রকৃতার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে ব্যয় করছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে কখনো কখনো এই অর্থ অপ্রয়োজনীয় ও অপুষ্টি খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করবে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যে, এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে খরচ করা যাবে।

তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা গুরুত্বের সঙ্গে মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ ‘অন্যান্য’ খাতে ব্যয় করেছে, যেখানে শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবেশে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না থাকায় এসব খাতে কম ব্যয় দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনও অর্থই ব্যয় করেনি, যাদের মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

এছাড়া, এই বছর লোকসানে থাকা বেশ ক’টি ব্যাংকও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আছে- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক অনেকটাই লোকসানে থাকলেও তারা এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাড়া দিয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার দায়িত্বে আরও গুরুত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo