ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত করতে কেন্দ্র সচিবদের জন্য জরুরি ৩১ দফার নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরে এই নির্দেশনা বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো হয়।
নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র সুরক্ষা, সতর্কতা, সময়সূচি ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও যাচাই: পরীক্ষার তিন দিন পূর্বে ট্রেজারি/থানার লকার ট্রাংকে রাখা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট ও তার বিবরণী তালিকা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
সেট এবং প্যাকেজিং: প্রতিটি প্রশ্নপত্র দুই সেট (সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী) হিসেবে তৈরি করা হবে এবং তারিখভিত্তিক আলাদা সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। যাচাইয়ের দিন ওই সেটগুলো গামের মাধ্যমে সীল করে কার্টুন টেপে মোড়ানো হবে এবং খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। কোনো ত্রুটি দেখা গেলে তা কেন্দ্র সচিবের অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে।
প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন: ট্রেজারি অফিসার পরীক্ষার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট দিনের সিকিউরিটি খাম—সৃজনশীল দুই সেট ও বহুনির্বাচনী এক সেট—কেন্দ্রে হস্তান্তর করবেন। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে প্যাকেট কেন্দ্রের কক্ষে আনতে হবে।
সেট কোড যাচাই: মোবাইল এসএমএসে সেট কোড পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের সামনে সেট কোড প্রদর্শন করে প্যাকেট খোলা যাবে। যে সেটটি ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত করে অন্য সেটের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকে রাখতে হবে। অব্যবহৃত সেটের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য সেট ব্যবহার করলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব শুধুমাত্র এমন মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন যাতে ছবি তোলা যায় না।
পরীক্ষার সময় ও প্রবেশাধিকার: সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করানো বাধ্যতামূলক। এর পর যদি কোনো পরীক্ষার্থী late আসে, তখন কেন্দ্র সচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতে রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্র প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন; পরীক্ষার পর রেজিস্টার বোর্ডে জমা দিতে হবে।
পর্যবেক্ষক ও ভর্তুকি: প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক (ইনভিজিলেটর) দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে অন্তত দুইজন দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।
আসন ব্যবস্থা: পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা বেঞ্চে প্রতি বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন করে বসাবেন; এতে কোনো ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ: পরীক্ষা কেন্দ্র 주변ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা তৈরি করতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধক পোস্টার প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে।
প্রবেশপত্র ও উপকরণ গ্রহণ: কেন্দ্র সচিবরা দরকারি প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধানকে হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করতে হবে।
উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা: ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা যাবে না। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র আলাদা আলাদা প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেট করতে হবে এবং ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা নিতে হবে। নতুন ও পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে; দুই সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় লেখা থাকলে কেন্দ্র সচিব দায়বদ্ধ থাকবেন।
গোপনীয়তা ও তল্লাশি: পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্রের টয়লেটসহ সব সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা উচ্ছেদ করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী ও প্রত্যবেক্ষক ছাড়া কেন্দ্রের ভিতরে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।
ক্যালকুলেটর ও অন্যান্য বিধি: বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটার ব্যতীত অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষায় নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার প্যাকেট গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের কক্ষে প্যাকেট খোলা—সব কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবেন। তাদের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্র সচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থাপনা করবেন।
হাজিরা, נע্যাণ ও রিপোর্টিং: পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নিতে হবে; অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য লাল কালি দিয়ে ‘অনুপস্থিত’ লিপিবদ্ধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে এবং উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখা/স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছে দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্র সংশোধন: পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রবেশপত্র গ্রহণের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।
ক্লাস পরিচালনা: পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে; অবশ্যই পরীক্ষা নেই এমন দিনগুলোতে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পাঠক্রম চালু রাখা যাবে।
অতিরিক্ত নিয়মভঙ্গ: রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবেনা; কোনো জটিলতা তৈরি হলে কেন্দ্র সচিব দায়ী হবেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের সময় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।
এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালন করা হবে এবং নির্ধারিত বিধি ভঙ্গ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্র সচিবদের ওপর পরীক্ষার সুষ্ঠুতায় সরাসরি দায় অপরিহার্য—তাই নির্দেশনা নিয়ে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।