সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দুটি দিনব্যাপী হোম অফিস সংক্রান্ত একটি নথি ভাইরাল হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সপ্তাহে তিন দিন অফিস পরিচালনার বিষয়ে গত ১ এপ্রিল একটি স্মারকপত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোন পত্র জারি করেনি। সবাইকে বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ঘরে বসে কাজ করার সুবিধা, এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই বিষয়ে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও, তার আগের দিন বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া নথি ছড়িয়ে পড়ে। এ নথিতে বলা হয়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা সপ্তাহে দু’দিন এইভাবে ঘরে থেকে কাজ করবেন। বাকি তিন দিন—রবি, সোম ও মঙ্গলবার—অফিসে উপস্থিত থাকবেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ঘরে থেকে কাজের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এছাড়া, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই তিন দিন অফিস খোলা থাকলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ চলবে। অন্য দিনগুলোতে দফতর খোলা থাকলেও, কর্মচারীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে কাজ করবেন। তবে, জরুরি পরিষেবা দানকারী সংস্থাগুলোর (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ সংস্থাগুলো) এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না, তারা নিজস্ব বিধি অনুসারে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে ও প্রচারিত নথিতে উল্লেখ করা হয়।